ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২১ অক্টোবর ২০২১, ৫ কার্তিক ১৪২৮

বাংলাদেশ থেকে ব্যবসা গুটিয়ে নিতে চাচ্ছে কি লাফার্জহোলসিম

সেন্ট্রাল ডেস্ক
০৬ অক্টোবর ২০২১ ১১:৩৯
আপডেট: ২১ অক্টোবর ২০২১ ০৯:০১
বাংলাদেশ থেকে ব্যবসা গুটিয়ে নিতে চাচ্ছে কি লাফার্জহোলসিম

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বহুজাতিক কোম্পানি লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ লিমিটেড বর্তমানে এখানকার ব্যবসা গুটিয়ে নিতে চাইছে। এরই মধ্যে কোম্পানিটি সম্ভাব্য বেশ কয়েকজন ক্রেতার সঙ্গে শেয়ার বিক্রির বিষয়ে আলোচনা করেছে। যদিও চূড়ান্ত হয়নি কোনো কিছুই। তবে ভারতীয় এক ক্রেতাপ্রতিষ্ঠানের কোম্পানিটির শেয়ার কেনার সম্ভাবনা বেশি। মালিকানা বদলের এ সম্ভাবনাকে ঘিরে পুঁজিবাজারে কোম্পানিটির শেয়ারদর এখন বেড়েই চলেছে।
লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের ২০২০ সালের আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোম্পানিটির ৫৮ দশমিক ৮৭ শতাংশ শেয়ারের মালিক নেদারল্যান্ডসভিত্তিক কোম্পানি সুরমা হোল্ডিংস বিভি। সুরমা হোল্ডিংস বিভির ৫০ শতাংশ শেয়ারের মালিক সুইজারল্যান্ডভিত্তিক লাফার্জহোলসিমের সহযোগী প্রতিষ্ঠান লাফার্জ এসএর। বাকি ৫০ শতাংশের মালিকানা রয়েছে স্পেনের সিমোলিনস ইন্টারনাসিয়োনালের কাছে।
এর বাইরে লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সিনহা ফ্যাশনস লিমিটেডের কাছে ৩ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ ও ইসলাম সিমেন্টের কাছে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। এ দুই প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা কোম্পানিটির পর্ষদে পরিচালক হিসেবেও রয়েছেন। বাকি ৩৫ দশমিক ৩৬ শতাংশ শেয়ারের মালিকানা রয়েছে সাধারণ, প্রাতিষ্ঠানিক ও বিদেশী বিনিয়োগকারীদের কাছে।
কোম্পানিটির বর্তমান পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ ১ হাজার ১৬১ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। মূল উদ্যোক্তা সুরমা হোল্ডিংস বিভির কাছে বর্তমানে কোম্পানিটির ৬৮ কোটি ৩৭ লাখ ৫৭৯টি শেয়ার রয়েছে। ডিএসইতে কোম্পানিটির গতকালের শেয়ারদর অনুযায়ী এ শেয়ারের ভ্যালুয়েশন দাঁড়ায় ৭ হাজার ২২৬ কোটি টাকারও বেশি। মূল উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান যদি বিদ্যমান বাজারদরে নিজ মালিকানাধীন সব শেয়ার বিক্রি করতে চায়, সেক্ষেত্রে ক্রেতাকে এ পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হবে।
লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের পর্ষদে স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে রয়েছেন বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সাবেক প্রেসিডেন্ট ড. রুবানা হক। কোম্পানির শেয়ার বিক্রির বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি কিছু জানেন না বলে বণিক বার্তাকে জানিয়েছেন।
বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, এ বছরের ৪ এপ্রিল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লাফার্জহোলসিমের শেয়ারদর ছিল ৪৩ টাকা ৯০ পয়সা। এর পর থেকেই ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে কোম্পানিটির শেয়ারদর। সর্বশেষ গতকাল কোম্পানিটির শেয়ার ১০৫ টাকা ৭০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে। এ বছরের ৪ এপ্রিল কোম্পানিটির ৩০ লাখ শেয়ার লেনদেন হয়েছিল। ওইদিনের পর থেকে কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেনের পরিমাণ ক্রমেই বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি ২ কোটি ৩৭ লাখ শেয়ার লেনদেন হয়েছে গত ২৯ সেপ্টেম্বর। গতকাল ডিএসইতে কোম্পানিটির ২ কোটি ১০ লাখ শেয়ার লেনদেন হয়েছে।
কোম্পানিটির শেয়ারদর বৃদ্ধির নেপথ্যের কারণ নিয়ে পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনেক জল্পনা-কল্পনা রয়েছে। কোম্পানিটির শেয়ারের গতিপ্রকৃতিতে নজর রাখছেন বিনিয়োগ ব্যাংকাররাও। লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের শেয়ার বিক্রির বিষয়টি সম্পর্কে তারাও শুনেছেন। তবে নিশ্চিত নন কেউই। এরই মধ্যে বাজারের বিত্তশালী কিছু বিনিয়োগকারী বেশি মুনাফার আশায় আগে থেকেই কোম্পানিটির শেয়ারে অবস্থান নিয়ে রেখেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গিয়েছে, শেয়ার বিক্রির বিষয়ে লাফার্জহোলসিমের পক্ষ থেকে বেশ কয়েক মাস আগে থেকেই সম্ভাব্য ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু হয়। এক্ষেত্রে বিক্রয়যোগ্য শেয়ারের সংখ্যা ও দর নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে এসব আলোচনা এখনো চুক্তি সইয়ের পর্যায়ে পৌঁছতে পারেনি। দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় এক কনগ্লোমারেটের কাছেও লাফার্জহোলসিমের শেয়ার কেনার প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল। কনগ্লোমারেটটির শীর্ষ এক কর্তার সঙ্গে কথা হলে নন ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্টের (এনডিএ) কারণে তিনি নাম প্রকাশ করতে চাননি। তবে তিনি বণিক বার্তাকে বলেছেন, আমাকে শেয়ার কেনার প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল। কিন্তু বিভিন্ন কারণে আমার পক্ষে সেটি কেনা সম্ভব হয়নি।
লাফার্জহোলসিমের কাছ থেকে শেয়ার কেনার প্রস্তাব পাওয়া আরো একাধিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে এনডিএর কারণে কেউই নিজের পরিচয় প্রকাশে রাজি হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে স্থানীয়দের পাশাপাশি বিদেশী ক্রেতাদের সঙ্গেও শেয়ার বিক্রির বিষয়টি নিয়ে লাফার্জহোলসিমের আলোচনা চলছে। এর মধ্যে চীনা ও ভারতীয় ক্রেতারাও রয়েছেন। এক্ষেত্রে ভারতীয় ক্রেতাপ্রতিষ্ঠানের শেয়ার কেনার সম্ভাবনা বেশি। দেশটির মেঘালয় রাজ্যে লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের চুনাপাথরের খনি রয়েছে। এ অবস্থায় ভারতীয় কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে কোম্পানিটির মালিকানা গেলে এর ব্যবস্থাপনায় সুবিধা হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের টানা শেয়ারদর বৃদ্ধির বিষয়টি এরই মধ্যে ডিএসইর নজরে এসেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের পক্ষ থেকে এ নিয়ে কোম্পানিটির কাছে চিঠিও পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে কোম্পানির টানা শেয়ারদর বৃদ্ধির কারণ জানতে চাওয়া হয়েছে। এর জবাবে কোম্পানিটি গতকাল ডিএসইকে জানিয়েছে, সাম্প্রতিক শেয়ারদর ও লেনদেন বৃদ্ধির পেছনে কোনো ধরনের মূল্য সংবেদনশীল তথ্য নেই।
এ বিষয়ে লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের বক্তব্য জানতে চাইলে কোম্পানিটির কমিউনিকেশন বিভাগের সিনিয়র ম্যানেজার তৌহিদুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, আমাদের নীতি অনুযায়ী আমরা কোনো ধরনের গুজব বা স্টক এক্সচেঞ্জে শেয়ারদর বৃদ্ধির বিষয়ে কোনো মন্তব্য করি না। শেয়ারদর বৃদ্ধির বিষয়টি বাজারের নিয়মানুসারেই নির্ধারিত হয়।
লাফার্জহোলসিমের বাংলাদেশ থেকে ব্যবসা গুটিয়ে নেয়ার উদ্যোগের বিষয়টি নিয়ে বাজারসংশ্লিষ্টদের মধ্যে বিস্ময় কাজ করছে। তারা বলছেন, ২০১৯ সালের শেষের দিকে লাফার্জ হোলসিম সিমেন্টকে অধিগ্রহণ করে। করোনার মধ্যে চলতি বছরের শুরুতেই প্রতিষ্ঠানটি এগ্রিগেটস বা পাথরের চিপের ব্যবসা শুরু করেছে। এ অবস্থায় কোম্পানির শেয়ার বিক্রির বিষয়টি বাজারসংশ্লিষ্টদের বিস্মিতই করেছে।
তবে এ মুহূর্তে বাংলাদেশে লাফার্জহোলসিমের ব্যবসা একেবারে জটিলতামুক্ত নয়। সম্প্রতি গ্যাসের দাম নিয়ে জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেমস লিমিটেডের সঙ্গে কোম্পানির দ্বন্দ্বের বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। এ মামলায় আদালতের রায়ে কোম্পানিটিকে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত ট্যারিফ অনুযায়ী গ্যাস বিল বাবদ ৯০ কোটি ২৫ লাখ টাকা পরিশোধের জন্য নির্দেশ দেয়া হয়। রায়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশকে এককালীন ও ত্রৈমাসিক কিস্তিতে এ অর্থ পরিশোধের নির্দেশনা দেন।
সম্প্রতি অনুমোদন না থাকার কারণে এগ্রিগেটস ব্যবসা বন্ধের জন্য লাফার্জহোলসিমকে নির্দেশনা দিয়েছে শিল্প মন্ত্রণালয়। গত ১৬ সেপ্টেম্বর মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ নিয়ে একটি চিঠি পাঠানো হয়। গত ২০ সেপ্টেম্বর চিঠিটি হাতে পাওয়ার পর পরই মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে আইনি পদক্ষেপ নেয় কোম্পানিটি। বিষয়টি এখন হাইকোর্টে বিচারাধীন।
এগ্রিগেটস ব্যবসা বন্ধের বিষয়ে জানতে চাইলে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকিয়া সুলতানা বলেন, মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে লাফার্জহোলসিমকে এগ্রিগেটস উত্পাদন বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অনুমোদন না নিয়ে তারা এ ব্যবসা করছিল।
বাংলাদেশ সিমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিএমএ) তথ্যানুসারে, বর্তমানে দেশে সিমেন্টের বাজার ২৮ হাজার কোটি টাকার। এ খাতে ৩৬টি প্রতিষ্ঠান ব্যবসা করছে। এর মধ্যে পাঁচটি বহুজাতিক। সিমেন্ট খাতের সম্মিলিত উত্পাদন সক্ষমতা সাড়ে ছয় কোটি টন। যদিও এর বড় অংশই অব্যবহূত থাকছে। এ খাতে উদ্যোক্তাদের মোট বিনিয়োগ ৪৫ হাজার কোটি টাকা। ১৪ শতাংশ মার্কেট শেয়ার নিয়ে বর্তমানে সিমেন্টের বাজারে শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ড আবুল খায়ের গ্রুপের শাহ সিমেন্ট। প্রায় ১০ শতাংশ মার্কেট শেয়ারের ভিত্তিতে সিমেন্টের বাজারে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বহুজাতিক কোম্পানি লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ লিমিটেড। বর্তমানে কোম্পানিটির বার্ষিক উত্পাদন সক্ষমতা ৪২ লাখ টন। তাছাড়া প্রতিষ্ঠানটির ভারতের মেঘালয়ে স্থাপনকৃত লাইমস্টোন প্লান্টের বার্ষিক উত্পাদন সক্ষমতা ৫০ লাখ টন। এর বাইরেও দেশের সিমেন্টের বাজারে বসুন্ধরা সিমেন্ট, মেঘনা সিমেন্ট, সেভেন রিংস সিমেন্ট, হাইডেলবার্গ সিমেন্ট, এমআই সিমেন্ট, প্রিমিয়ার সিমেন্টের উল্লেখযোগ্য অবস্থান রয়েছে।
একসময় দেশের সিমেন্টের বাজারে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর আধিপত্য থাকলেও বর্তমানে তা স্থানীয়দের কাছে চলে গিয়েছে। তীব্র প্রতিযোগিতাপূর্ণ এ বাজারে সব প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সিমেন্টের দাম নির্ধারণ করাও সম্ভব হয় না। এতে কাঁচামালের দাম বাড়লেও সহজে সিমেন্টের দাম বাড়ানো যায় না। তাছাড়া বাজার দখলে রাখতে এ খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কম দামে সিমেন্ট বিক্রি করা নিয়ে প্রতিযোগিতাও চলে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে বহুজাতিক সিমেন্ট কোম্পানিগুলো ব্যবসায়িকভাবে চাপের মুখে রয়েছে। বাজার দখলে ব্যর্থ হয়ে এরই মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক এমিরেটস সিমেন্ট ও মেক্সিকোভিত্তিক সিমেক্স বাংলাদেশ থেকে তাদের ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছে।
একই চিত্র দেশের ওষুধ খাতেও। স্থানীয় উত্পাদনকারীরা আধিপত্য বিস্তার শুরু করার সঙ্গে সঙ্গে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোও বাংলাদেশ থেকে তাদের বিনিয়োগ প্রত্যাহার করতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে বহুজাতিক ওষুধ উত্পাদনকারী প্রতিষ্ঠানর গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইন বাংলাদেশ ও সানোফি অ্যাভেন্টিস বাংলাদেশ থেকে ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছে।
দেশে লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ লিমিটেড ইনকরপোরেটেড হয় ১৯৯৭ সালের ১১ নভেম্বরে। শুরুতে এর নাম ছিল লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট লিমিটেড। ২০১৭ সালে নাম পরিবর্তন করে লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ করা হয়। ২০০৩ সালে কোম্পানিটি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। ভারতের মেঘালয়ের শিলংয়ে লাফার্জ উমিয়াম মাইনিং প্রাইভেট লিমিটেড ও লাম মাওশুন মিনারেল প্রাইভেট লিমিটেড নামে লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের দুটি সাবসিডিয়ারি কোম্পানি রয়েছে।
বাংলাদেশে সিলেটের ছাতকে লাফার্জহোলসিমের একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ প্লান্ট রয়েছে। এছাড়া কোম্পানিটির নারায়ণগঞ্জের মেঘনাঘাটে দুটি ও খুলনার মোংলায় একটি গ্রাইন্ডিং স্টেশন রয়েছে। কোম্পানিটি চলতি ২০২১ হিসাব বছরের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) ভালো ব্যবসা করেছে। এ সময় বাজারে নতুন সিমেন্ট আনার পাশাপাশি চুনাপাথর চিপের ব্যবসা থেকে আয় যোগ হওয়ার কারণে কোম্পানিটির বিক্রি বেড়েছে। এছাড়া প্রচলিত সিমেন্টের ব্যবসায়ও প্রবৃদ্ধি হয়েছে কোম্পানিটির। সব মিলিয়ে চলতি হিসাব বছরের প্রথমার্ধে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় কোম্পানিটির বিক্রি বেড়েছে ৪২ শতাংশ। চলতি হিসাব বছরের প্রথমার্ধে লাফার্জহোলসিমের বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ১০৫ কোটি টাকা, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৭৭৬ কোটি টাকা। সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২০ হিসাব বছরে লাফার্জহোলসিমের মোট বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ৬২২ কোটি ২০ লাখ টাকা।