ঢাকা রোববার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৫ ফাল্গুন ১৪২৭

২৪ মে থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস শুরু

সেন্ট্রাল ডেস্ক
২২ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ১৬:০৯
আপডেট: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ২২:১৯
২৪ মে থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস শুরু শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি

করোনাভাইরাসের কারণে গত বছরের মার্চ মাস থেকে বন্ধ থাকা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আগামী মে মাসের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে ক্লাস শুরু হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। তিনি বলেছেন, ২৪ মে (সোমবার) থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে পাঠদান শুরু হবে। তার এক সপ্তাহ আগে ১৭ মে (সোমবার) বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সব আবাসিক হল খুলবে। সোমবার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে এক অনলাইন ব্রিফিংয়ে শিক্ষামন্ত্রী এ কথা বলেন।

ব্রিফিংয়ের শুরুতে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, উচ্চশিক্ষা তথা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের বিষয়ে সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তার আগে শনিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বৈঠক হয়েছে। সেখানে এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সব শ্রেণিকক্ষ খোলার আগে যথারীতি অনলাইনে ক্লাস চলবে। আবাসিক হলগুলো খোলার আগে শিক্ষক-কর্মচারীদের টিকা দেওয়া হবে। করোনা পরিস্থিতি সর্ম্পকে মন্ত্রী বলেন, করোনা মোকাবিলায় অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশ বেশ সাফল্য অর্জন করেছে। সংক্রমণের হার কমে আসছে। টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশে বড় সাফল্য দেখছি।

তিনি বলেন, যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ভারতে করোনার নতুন ধরণ পাওয়া গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন এটি বেশি সংক্রমণ ঘটাতে পারে। এ বিষয়ে আমাদের নজর রাখতে হচ্ছে।

এর আগে দুপুরে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের হল খুলে দেওয়ার বিষয়ে ৫-৬ দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত হবে। তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দ্রুত খুলে দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি দেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল খুলে দেওয়ার ব্যাপারে ৫-৬ দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

করোনার প্রাদুর্ভাব রুখতে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়। কয়েক ধাপে বাড়ানোর পর ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে দেশে করোনার প্রাদুর্ভাব কমতে শুরু করায় চলতি বছরের শুরু থেকেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার দাবি উঠতে থাকে বিভিন্ন মহল থেকে। এ নিয়ে আন্দোলনে নামেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

এর মধ্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থীরা আবাসিক হলের ফটকের তালা ভেঙে প্রবেশ করেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি), রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ (রাবি) কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। সবশেষ সোমবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হলের শিক্ষার্থীরা জোর করে হলে ঢুকে পড়েছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা কিছু হলের রুমে ঢুকে পড়েছেন, আর একদল শিক্ষার্থী হল মাঠে ক্রিকেট খেলা শুরু করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হলের একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, দীর্ঘ এক বছর আমাদের হল বন্ধ। আমরা আর বাড়িতে থাকতে পারছি না। তাই জোর করে উঠেছি এবং এখন থেকে হলে অবস্থান করব।