ঢাকা রোববার, ১৩ জুন ২০২১, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮

মানে আপসহীন চঞ্চল চৌধুরী

বিনোদন ডেস্ক
০৮ জুন ২০২১ ২২:০০
আপডেট: ১১ জুন ২০২১ ১৫:৫৪
মানে আপসহীন চঞ্চল চৌধুরী ছবি: সংগৃহীত

একাধিকবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী। নাটকে দীর্ঘদিন ব্যস্ততার সঙ্গে কাজ করে এলেও তার সিনেমার তালিকা যে কোনো অভিনেতার জন্য ঈর্ষণীয়। নানা ধরনের গল্পে বৈচিত্র্যময় চরিত্রে নিজেকে মেলে ধরেছেন তিনি। দর্শকের কাছে চঞ্চল এখন এক ভরসার নাম। তাইতো তিনিও এখন কাজ নির্বাচনে অনেক বেশি সাবধানী। চঞ্চল বলেন, ‘এখন আর গড়পড়তা কাজ করতে ভালো লাগে না। তাই শুধু ব্যস্ত থাকার জন্য যে কোনো গল্পে কাজ করি না। যে কাজ আমার পছন্দ না হয় সেটি করি না। আর এখন করোনার সময় তো বাইরে বের হতেই ভয় লাগে। জীবন বাজি রেখে কাজ করি, সেই কাজটি যদি ভালো মানের না হয় তার জন্য এত বড় রিস্ক নিয়ে কী লাভ?’

করোনার মধ্যে টানা কাজ করতে পারছেন না চঞ্চল চৌধুরী। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আসলে করোনার মধ্যে বাইরে গিয়ে কাজ করতেই ভয় লাগে। এজন্য কদিন কাজ করি, আবার কদিন ঘরে থাকি। যদি বুঝি কোনো সমস্যা হয়নি, তাহলে আবার সিডিউল দিই। এ মাসে আর শ্যুটিং করব না।’

ঈদে এবার খুব বেশি নাটকে কাজ করেননি এই অভিনেতা। হানিফ সংকেতের ‘সৎ-এর সত্য সমাচার’ নাটকটি বেশ আলোচিত হয়েছে। এছাড়া বৃন্দাবন দাসের লেখা নাটকটির জন্যই বেশ ভালো দর্শক সাড়া পেয়েছেন বলে জানালেন চঞ্চল। ইউটিউবেও নাটক দুটির ভিউ বেশ ভালো। এ প্রসঙ্গে চঞ্চল চৌধুরীর রয়েছে নিজস্ব ভাবনা। তিনি বলেন, ‘এখন আমাদের নাটকের মান খারাপ হওয়ার পেছনে এই ইউটিউব ভিউ অনেকটাই দায়ী। পরিচালক, প্রযোজক, এজেন্সি, টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত আয়ের জন্য যাদের ইউটিউবে চাহিদা বেশি তাদের দিয়েই কাজ করাচ্ছেন। এভাবে ভালো মানের কাজ হওয়া কীভাবে সম্ভব?’ তিনি আরও বলেন, ‘আজকাল আমাদের দেশে একজন কমপ্লিট পরিচালক, লেখক, অভিনয়শিল্পী পাওয়া খুব কঠিন। হয়তো একটি কাজের গল্প ভালো কিন্তু কাস্টিং ঠিকমতো হয়নি। আবার অনেক পরিচালক খুব ভালো নির্মাণ করেছে, কিন্তু গল্পের জোর নেই। আমরা শিল্পী হিসেবে দর্শককে কী দেখাব, কোন মূল্যবোধ চর্চায় উৎসাহিত করব সেটা অনেক বড় বিষয়। কিন্তু নানা ধরনের সিমú্যাথি পাওয়ার জন্য কাজ করলে তো একটা সময় হিতে বিপরীত সবারই হবে। কিন্তু এখন এ নিয়ে কেউ ভাবছে না।’

চঞ্চল চৌধুরী অভিনীত গিয়াসউদ্দিন সেলিমের ‘পাপ-পুণ্য’ ও মেজবাউর রহমান সুমনের ‘হাওয়া’ সিনেমা দুটি মুক্তির জন্য প্রায় প্রস্তুত। কিন্তু প্রেক্ষাগৃহ কবে খুলবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। বিকল্প পন্থায় সিনেমা দুটি দর্শকের কাছে আনা যায় কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অভিনেতার কাজ অভিনয় করা, ডাবিং করা। সেগুলো মন দিয়েই করেছি। এখন তা কীভাবে দর্শকের কাছে আনা হবে সেটা প্রযোজকের দায়িত্ব। এ বিষয়ে আমি কিছুই বলতে পারব না।’

তবে দর্শকের জন্য নতুন চমক অপেক্ষা করছে। নির্মাতা অমিতাভ রেজা চৌধুরী আর অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরীর রসায়নের কথা কে না জানে? তাদের ‘আয়নাবাজি’ ঢালিউডের অন্যতম সফল সিনেমা। এর বাইরেও তারা যখন একসঙ্গে কাজ করেছেন তা হয়ে উঠেছে অনবদ্য। এই জুটি এবার আসছেন ওয়েবের দুনিয়ায়। অমিতাভ রেজা প্রথমবারের মতো নির্মাণ করছেন সিরিজ ওয়েবফিল্ম। এর নাম ‘মুন্সিগিরি’। প্রথম সিনেমার পর নির্মিত হবে দ্বিতীয় ও তৃতীয় সিনেমা। যেভাবে বড় পর্দার জন্য হলিউডে হয়েছিল ‘দ্য অ্যাভেঞ্জার্স’, বলিউডে ‘ধুম’ কিংবা টালিউডে ‘ফেলুদা’। দেশি রহস্য গল্পের নতুন চরিত্র মাসুদ মুন্সি। এই সিরিজ চলচ্চিত্রে তার গোয়েন্দাগিরি দেখা যাবে। এমন একটি তাৎপর্যপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করবেন একাধিকবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী। তার বিপরীতে থাকবেন একেবারেই বিপরীত মেরুর এক নায়িকা। তিনি হলেন পূর্ণিমা। আরও থাকবেন শবনম ফারিয়া। কথাসাহিত্যিক শিবব্রত বর্মনের উপন্যাস ‘মৃতেরাও কথা বলে’ অবলম্বনে মুন্সিগিরির চিত্রনাট্য লিখেছেন নাসিফ আমিন। লেখক নিজেও চিত্রনাট্যের কাজে আমাদের সহায়তা করছেন। ‘মুন্সিগিরি’র গল্পে এক সরকারি কর্মকর্তার মৃত্যু রহস্যের তদন্ত করবেন পুলিশের গোয়েন্দা মাসুদ মুন্সি অর্থাৎ চঞ্চল চৌধুরী। নিহত কর্মকর্তার স্ত্রী সুরাইয়ার চরিত্রে দেখা যাবে পূর্ণিমাকে। এ নিয়ে রোমাঞ্চিত পূর্ণিমা বলেন, ‘এ রকম নতুন কিছুর জন্যই আমরা অধীর হয়ে বসে থাকি। সব সময়ই চেয়েছি জীবনে নতুন কিছুর যোগ হোক, মানুষ আমাকে নতুন রূপে দেখুক। এ ধরনের গল্প আমার কাছে আগে কখনোই আসেনি। আমার সুযোগ হয়েছে দুটো চরিত্র থেকে একটি বেছে নেওয়ার। ফলে কাজটি করতে পারছি ভেবে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি।’ চঞ্চল চৌধুরী বলেন, ‘চলচ্চিত্রটির সঙ্গে যুক্ত হতে পেরে আমি খুব খুশি। আমার বিশ্বাস, যে চমৎকার গল্প নিয়ে কাজটি হচ্ছে, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আমাদের নিজস্ব গল্প হিসেবে ওয়েবে এটি স্বতন্ত্র কাজ হবে। আশা করছি, দর্শকদের সামনে আরও একটি ভালো চরিত্রে হাজির হতে পারব।’ অমিতাভের সঙ্গে কাজের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা নিয়ে চঞ্চল বলেন, ‘তিনি বড় একজন নির্মাতা। ‘আয়নাবাজি’সহ বেশ কিছু টিভিসি ও ফিকশনে তার সঙ্গে কাজ করেছি। তার প্রতি আমার আস্থা ও বিশ্বাস আছে। আশা করছি ভালো কিছু হবে।’

এদিকে, বঙ্গবন্ধুর বায়োপিকে তার বাবার চল্লিশ বয়সের চরিত্রে অভিনয় করবেন চঞ্চল চৌধুরী। তিনি জানালেন, ‘বঙ্গবন্ধুর বায়োপিকে অভিনয়ের সুযোগ পাওয়ার মধ্য দিয়ে ইতিহাসের অংশ হলাম। একজন অভিনয়শিল্পীর জীবনে এর চেয়ে বিরাট সৌভাগ্য আর কী হতে পারে! শেখ লুৎফর রহমানের চরিত্রে অভিনয়ের জন্য নিজের নামটি জানতে পারি, তখন থেকেই মানসিকভাবে প্রস্তুত হতে শুরু করি।’