ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২১ অক্টোবর ২০২১, ৫ কার্তিক ১৪২৮

নারীদের বাদ দিয়ে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার সম্ভব নয়: গুতেরেস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৩ অক্টোবর ২০২১ ১৪:৫২
আপডেট: ১৯ অক্টোবর ২০২১ ০৭:২৩
নারীদের বাদ দিয়ে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার সম্ভব নয়: গুতেরেস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: তালেবান ক্ষমতা দখলের পর চরম অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে আফগানিস্তান। বড় দাতা দেশগুলো আফগানিস্তান থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। আফগানিস্তানে অর্থনৈতিক বিপর্যয় ঠেকাতে দেশটিতে অর্থপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তিনি মনে করেন, নারীদের বাদ দিয়ে কোনোভাবেই অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার সম্ভব নয়। গুতেরেস বলেন, আফগানিস্তানের অর্থনীতির ৮০ শতাংশই অনানুষ্ঠানিক। যেখানে নারীদের অগ্রণী ভূমিকা রয়েছে। নারীদের ছাড়া আফগান অর্থনীতি ও সমাজ পুনরুদ্ধারের কোনো উপায় নেই। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করার উপায় খোঁজা প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক আইন না ভেঙেই এটি করা যায়। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় গতকাল সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে সাংবাদিকদের আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, ‘আফগান নারী ও মেয়েশিশুদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি তালেবান রক্ষা করেনি। তালেবানের পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ হতে দেখে আমি বিশেষভাবে শঙ্কিত। নারী ও শিশুদের প্রতি তালেবানের করা প্রতিশ্রুতি রক্ষার জোর দাবি জানাচ্ছি। তালেবানের আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও মানবিক আইনের বাধ্যবাধকতা মেনে চলা উচিত।’ আফগানিস্তানে ক্ষমতা দখলের পর তালেবান শুরু থেকেই নারীদের অধিকার রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এসেছে। কিন্তু বাস্তবে এমনটা দেখা যায়নি। রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে নারীদের বঞ্চিত করেছে কট্টর ইসলামি এ সংগঠন। জাতিসংঘ বলছে, নারী ও মেয়েশিশুদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি তালেবান। এর কঠোর নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। জাতিসংঘ প্রধান বলেন, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ হলে আফগানিস্তানের নারী ও মেয়েশিশুদের স্বপ্নভঙ্গ হবে। নারী ও মেয়েশিশুদের মনোযোগের কেন্দ্রে থাকা দরকার। গুতেরেস বলেন, এ বিষয়ে জাতিসংঘ হাল ছেড়ে দেবে না। তালেবানের সঙ্গে প্রতিনিয়ত এসব নিয়ে আলোচনা চলছে। আফগানিস্তানে ২০০১ সাল থেকে অন্তত ৩০ লাখ মেয়েশিশু স্কুলে ভর্তি হয়েছে। গত কয়েক বছরে মেয়েদের স্কুলে যাওয়ার হারও বেড়েছে বলে তিনি জানান। সম্প্রতি দোহায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে তালেবানের শীর্ষ নেতাদের মুখোমুখি বৈঠকের পরপর জাতিসংঘের মহাসচিব এসব কথা বলেন। এদিকে জাতিসংঘ মহাসচিবের এমন বক্তব্যের পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পক্ষ থেকে আফগানিস্তানকে ৭০০ মিলিয়ন ইউরো জরুরি তহবিল দেওয়ার ঘোষণা এসেছে। আজ মঙ্গলবার ইইউর নেতাদের সঙ্গে দোহায় মুখোমুখি বৈঠকের ঘোষণা দেয় তালেবান। এর আগমুহূর্তে আজ ইউরোপীয় কমিশন এই ঘোষণা দিয়েছে। এই ঘোষণার পর আফগানিস্তানে ইইউর মোট প্রতিশ্রুত তহবিল ১ বিলিয়ন হলো। এর আগে ইইউ নির্বাহী আফগানিস্তানে ৩০০ মিলিয়ন ইউরো সহায়তার ঘোষণা দিয়েছিল। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডের এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আফগানিস্তানে মানবিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয় ঠেকাতে যতটা করা সম্ভব, আমরা করব।’