ঢাকা রোববার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ৯ আশ্বিন ১৪২৯

বিশ্ব দরবারে সাফল্য আর উন্নয়নের গল্প শোনাবেন প্রধানমন্ত্রী

সেন্ট্রাল ডেস্ক
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২ ০০:৫৮
আপডেট: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ ০২:৩৬
বিশ্ব দরবারে সাফল্য আর উন্নয়নের গল্প শোনাবেন প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক: নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় শুক্রবার দুপুরে জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এটি হবে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে তার ১৯তম ভাষণ। ১৯৭৪ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতিসংঘে প্রথম বাংলায় ভাষণ দেন। বাবার পদাঙ্ক অনুসরণ করে প্রতিবারই বাংলায় ভাষণ দেন শেখ হাসিনা। এবারের ভাষণে করোনা মহামারি মোকাবেলা, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা, খাদ্য নিরাপত্তা, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণ, শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ, ১০ লাখ মানুষের বিনামূল্যে গৃহ নির্মাণ, সবার জন্য বাসস্থান নিশ্চিতকরণ কর্মসূচি, দেশের বেশিরভাগ এলাকায় শতভাগ বিদ্যুৎ সংযোগ, এমডিজির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় এবং তাদের খাদ্য, বাসস্থান ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণসহ বাংলাদেশে গত ১৩ বছরের অভূতপূর্ব সাফল্য আর উন্নয়নের গল্প শোনাবেন তিনি। মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনের উচ্চ পর্যায়ের বিতর্ক অনুষ্ঠানে বিশ্ব নেতারা যেখানে আশা-নিরাশা আর হতাশার কথা শোনাচ্ছেন সেখানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শোনাবেন চরম প্রতিকূলতার মধ্যে বলিষ্ঠ নেতৃত্বে উন্নয়ন আর সাফল্য অর্জনের গল্প। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো করোনা মহামারির কারণে ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। ভয়াবহ আকারে আঘাত না হানলেও তার বিরুদ্ধে লড়তে গিয়ে বাংলাদেশকে সাধ্যাতীত শক্তি নিয়োগ করতে হয়েছে। ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান এবং অর্থনীতির ওপর অনেক বড় আঘাত এসেছে। কোভিডের ছোবল মোকাবেলা করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার কথা জাতিসংঘে তুলে ধরবেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর এবারের ভাষণে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে রোহিঙ্গা সমস্যা। ছোট্ট আয়তনের ১৭ কোটি মানুষের ওপর চেপে বসেছে প্রায় ১৪ লাখ রোহিঙ্গা। ২০১৭ সালে মিয়ানমার জাতিগত নিধনযজ্ঞ শুরু করলে ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। আর আগে থেকে আশ্রয় নেয়া আরো ৩/৪ লাখ রোহিঙ্গার বোঝা বইতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। নিজেদের নাগরিকদের নিয়েই যেখানে হিমশিম খাচ্ছে সেখানে বাড়তি ১৪ লাখ মানুষের বোঝা দীর্ঘদিন ধরে বয়ে বেড়ানো সম্ভব নয় একটি ছোট্ট জনবহুল দেশে। রোহিঙ্গারা যে বাংলাদেশের পরিবেশ, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও অর্থনীতির ওপর ঝুঁকি সেই প্রেক্ষাপট তুলে ধরবেন। এর আগে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতিসংঘের কাছে রোহিঙ্গা জনগোষ্টিকে ফিরিয়ে নেয়ার আহবান জানালেও আজ আবার জাতিসংঘে তুলে ধরবেন সেই দাবি। সেই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের উপর নৃশংস নির্যাতন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে মিয়ানমারের বিচার দাবিও জানাবেন বিশ্ব দরবারে।একটি দরিদ্র দেশ থেকে কীভাবে উদীয়মান অর্থনীতির দেশে রূপান্তরিত হলো বাংলাদেশ সেই গল্পের পাশাপাশি ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি জ্ঞানভিত্তিক উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার মডেল উপস্থাপন করবেন দেশের জাতির জনকের কন্যা। ১৯৭৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতিসংঘের সদস্য হওয়ার পর সরকার প্রধান হিসেবে সবচেয়ে বেশিবার (১৯ বার) জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণ দেবেন চতুর্থবারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।