ঢাকা রোববার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ৯ আশ্বিন ১৪২৯

তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ’ এতেই কি সমাধান?

সেন্ট্রাল ডেস্ক
০৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ ০০:৫১
আপডেট: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ ০৩:৪৮
তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ’ এতেই কি সমাধান?

‘তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ’ এতেই কি সমাধান?
রিয়াদ হোসেন
দেশে দ্রব্যমূল্যের বাজার যেমন উর্ধ্বগতি তেমনি দুর্নীতির সীমাও উর্ধ্বমুখী। বিভিন্ন দপ্তরে দিনের পর দিন বেড়ে চলেছে অনিয়ম, ঘুষ আর দুর্নীতি। কিছুদিন আগে আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী পালন করেছি। স্বাধীনতা পরবর্তী এই সময়গুলোতে বহু অর্জনের সাক্ষী হয়েছি আমরা। বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে হয়েছে নানা ক্ষেত্রে অগ্রগতি। তবে উন্নয়ন, সম্ভাবনার গল্প যেমন কম নয় ঠিক তার বিপরীত পাশে দেশের সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে অস্থিরতা, দুর্নীতি, ঘুষ, চাঁদাবাজির গল্পের ইতিহাসও আমাদেরকে ব্যথিত করে। কিন্তু অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের কাজটা কি শুধু তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো? বেশিরভাগ মানুষ আমরা সোশ্যাল মিডিয়ায় দায়সারাভাবে এটি লিখে কেটে পড়ি৷ বিভিন্ন সময় দেখি এই সত্য উদঘাটনে সাংবাদিকরা যখন হামলা-মামলার শিকার হন তখনও আমরা সমবেদনা জানিয়ে তীব্র নিন্দা প্রকাশ করি। কিন্তু এভাবে আর কত? এতেই কি প্রকৃত সমাধান খুঁজে পাওয়া যাবে? মনে করেন, কোন দপ্তরে দুর্নীতির খবর শুনে বা অভিযোগ পেলে গণমাধ্যমকর্মীরা খবরটি যাচাই বাছাই করতে গিয়ে সত্যতা পায়। আর সে খবরটি প্রকাশিত হলে তার ভিত্তিতে তদন্ত কমিটি গঠন করে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ। তবে তাদের প্রতিবেদন দাখিল করতেই কেটে যায় মাসের পর মাস। এদিকে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের অপকর্মের খবর মিডিয়ায় প্রকাশ পেলে আমরা সেটি দেখে লাইক, কেমন্ট করে সামনের দিকে এগুতে থাকি নতুন কোন খবরের আশায়। কিন্তু আসলেই কি ওই তদন্ত প্রতিবদেন আলোর মুখ দেখে? বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তদন্ত কমিটির দেওয়া প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ায় আগেই এদেশে নতুন কোন ইস্যুর জন্ম হয়। আমরা সেটি ভুলে নতুন ঘটনা নিয়ে আবার আলোচনা-সমালোচনা, যুক্তিতর্ক দিতে থাকি। এভাবেই ঘটনার পালাবদলে বদলাতে থাকে আমাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদের রীতিনীতি। গত ৫ সেপ্টেম্বর খবরের লাইভ চলাকালীন দেশের অন্যতম বেসরকারি টিভি চ্যানেল এটিএন নিউজ এর রাজশাহী প্রতিনিধি বুলবুল হাবীব ও ক্যামেরা পারসন রুবেল ইসলামের ওপর বিএমডিএ'র কর্মকর্তা-কর্মচারীর হামলা চালায়। খবর চলাকালীন এ ঘটনা ঘটায় মুহুর্তের মধ্যে তা ভাইরাল হয়ে যায়। সংবাদকর্মীরা তা শেয়ার করতে থাকে। আর আমার মতো সাধারণ মানুষ নিজেদের দায়িত্ববোধ থেকে নিন্দা জানাতে থাকে৷ অবশ্যই কেউ কেউ নিন্দা না জানিয়ে উষ্কানি মূলক মন্তব্যও করেছে। যদিও এই শ্রেণির মন্তব্যে খুব বেশি প্রভাব পড়ে না সংবাদকর্মীদের চলাচলের উপর। তবুও সত্য উদঘাটনে এমন ঘটনায় বিরূপ প্রতিক্রিয়াটায় একটু খারাপ লাগা স্বাভাবিক। এভাবে দেশের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে খবর সংগ্রহের কাজে নানা বাঁধার সম্মুখীন হন এদেশের গণমাধ্যমকর্মীরা। কিছুদিন আগে সাতক্ষীরাতেও পানি উন্নয়ন বোর্ডের হামলার শিকার হন মানব জমিন পত্রিকার সাতক্ষীরা প্রতিনিধি ইয়ারব হোসেন। শুধু হামলা নয় পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা বানোয়াট মামলাও করা হয়। কিন্তু এভাবে কতদিন চলতে পারে। যদিও আমরা জানি, হামলা মামলা দিয়ে কখনও গণমাধ্যমের গলা চেপে রাখতে পারিনি। তবুও নিজেদের দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে আমাদের কি উচিত না দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলা, মানববন্ধন করা, সরকারের সর্বোচ্চ মহলে বিষয়টি জানাতে বাকি পদক্ষেপে সংযুক্ত হওয়া? শুধু কি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদে এগুলো বন্ধ হবে? কখনও হবে না। এজন্য বঙ্গবন্ধু যে সোনার বাংলাদেশ গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেছিলেন সেটিকে বাস্তবে রুপ দিতে হলে নিজ নিজ জায়গা থেকে সোচ্চার হওয়া উচিত। কথা বলা উচিত অন্যায়, অনিয়মের বিরুদ্ধে। এজন্য দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে, দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়তে শুধু সোশ্যাল মিডিয়ায় আমাদের কথা না বলে বাস্তবে কথা বলতে হবে, অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে হবে। আমরা বিশ্বাস করি, এই তরুণ প্রজন্মের বলিষ্ঠ কন্ঠস্বরকে কেউ কখনও দমাতে পারেনি আর পারবে না। এ দেশে একদিন এই তরুণরাই প্রতিনিধিত্ব করবে আর সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে উঠবে তাদের হাত ধরেই।
লেখক: স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক সাতঘরিয়া।