ঢাকা শুক্রবার, ২২ অক্টোবর ২০২১, ৫ কার্তিক ১৪২৮

শারদীয় দুর্গোৎসব: দেবীপক্ষ শুরু কাল, ভোরে মহালয়া

সেন্ট্রাল ডেস্ক
০৫ অক্টোবর ২০২১ ১২:৩৮
আপডেট: ২১ অক্টোবর ২০২১ ১৪:২৬
শারদীয় দুর্গোৎসব: দেবীপক্ষ শুরু কাল, ভোরে মহালয়া

আর মাত্র একদিন পরই পিতৃপক্ষের অবসান হবে। আগামীকাল বুধবার ভোরের আলো ফুটে উঠার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হবে দেবীপক্ষ। মহালয়ার মাধ্যমে ভক্তকূল মর্তে আমন্ত্রণ জানাবে দেবী দুর্গাকে। অনুষ্ঠিত হবে চণ্ডিপাঠ, মহালয়ার ঘট স্থাপন ও বিশেষ পূজা। মহালয়া মানেই দুর্গাপূজার দিন গোনা শুরু হয়ে যাওয়া। মহালয়া দুর্গোৎসবের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দেবীর আরাধনা সূচিত হয় মহালয়ার মাধ্যমে। পুরাণে আছে; দুর্গোৎসবের তিনটি পর্ব- মহালয়া, বোধন আর সন্ধিপূজা।
করোনার তাণ্ডবে গত বছর দুর্গোৎসবের আনন্দ অনেকটাই ফিকে ছিল। তাছাড়া মল/মলিন মাসের কারণে মহালয়া অনুষ্ঠিত হওয়ার মাসখানেক পর শুরু হয় দুর্গোৎসব। শারদোৎসবের চিরচেনা দৃশ্য ছিল অনুপস্থিত। করোনা পুরোপুরি নির্মূল না হলেও এ বছর অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। তাই এবার আনন্দ উপভোগের সুযোগটা কিছুতেই হাতছাড়া করতে রাজি নন উৎসব প্রিয় বাঙালি।
মহালয়া কথাটির বিশেষ অর্থ রয়েছে। পিতৃপক্ষের অবসান বা দেবীপক্ষের পূর্ববর্তী অবস্থাকে বলা হয় মহালয়া। এই ব্যাপারে অবশ্য মতান্তর রয়েছে। ‘মহ’ শব্দটির অর্থ মানে ‘পূজা’, আবার ‘মহ’ বলতে উৎসবও বোঝায়। এছাড়া মহালয়া বলতে বোঝা যায় ‘মহান’ ও ‘আলয়’ নিয়ে মহালয়া। এর সঙ্গে ‘আ’ যোগ করে পূজার ‘আলয়’। ‘আলয়’ শব্দের অর্থ ‘আশ্রয়’। আবার মহালয় বলতে বোঝা যায় পিতৃলোককে, যেখানে স্বর্গত পিতৃপুরুষদের অবস্থান।
পুরাণ অনুযায়ী মহালয়ার দিনেই দেবী দুর্গা মহিষাসুর বধের দায়িত্ব পান। ব্রহ্মার বর অনুযায়ী কোনো মানুষ বা দেবতা দ্বারা মহিষাসুরকে বধ করা সম্ভব ছিল না। একমাত্র নারী শক্তির দ্বারা সম্ভব ছিল তাকে বধ করা। তাই ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও শিব শক্তি দ্বারা সৃষ্ট নারীশক্তি সিংহবাহিনী মা দুর্গা মহিষাসুরকে পরাজিত করে হত্যা করেন। এভাবেই দেবীর আগমন ঘটে মর্ত্য।ে
বিশুদ্ধ পঞ্জিকা অনুযায়ী, ১১ অক্টোবর সোমবার বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা। ১১ অক্টোবর ষষ্ঠী, ১২ অক্টোবর সপ্তমী, ১৩ অক্টোবর অষ্টমী, ১৪ অক্টোবর নবমী এবং ১৫ অক্টোবর দশমী।
সনাতন ধর্মে দেবীপক্ষকে বলা হয় সবচেয়ে শুভ দিন। এ সময় সব ধরনের শুভ কাজ সম্পন্ন করা যায়। পুরাণে আছে; অশুভ অসুর শক্তির কাছে পরাভূত দেবতারা স্বর্গলোকচ্যুত হয়েছিলেন। চারদিকে অশুভের প্রতাপ। এই অশুভ শক্তিকে বিনাশ করতে একত্র হলেন দেবতারা। অসুর শক্তির বিনাশে অনুভূত হলো এক মহাশক্তির আবির্ভাব। দেবতাদের তেজরশ্মি থেকে আবির্ভূত হলেন অসুরবিনাশী দেবী দুর্গা। পুরাণমতে, রাজা সুরথ প্রথম দেবী দুর্গার আরাধনা শুরু করেন। বসন্তে তিনি এই পূজার আয়োজন করায় দেবীর এ পূজোকে বাসন্তী পূজাও বলা হয়। কিন্তু রাবণের হাত থেকে সীতাকে উদ্ধার করতে যাওয়ার আগে শ্রী রামচন্দ্র দুর্গাপূজার আয়োজন করেছিলেন। তাই শরৎকালের এই পূজাকে হিন্দুমতে অকালবোধনও বলা হয়। ধর্মমতে, এই দিনে দেব-দেবীকূল দুর্গাপূজার জন্য নিজেদের জাগ্রত করেন। মহালয়ার দিন ভোরে মন্দিরে মন্দিরে শঙ্খের ধ্বনি ও চণ্ডিপাঠের মধ্য দিয়ে দেবীকে আবাহন জানানো হয়।
সনাতন বিশ্বাস ও বিশুদ্ধ পঞ্জিকামতে, জগতের মঙ্গল কামনায় দেবী দুর্গা এবার মর্ত্যলোকে (পৃথিবী) আসবেন ঘোটকে (ঘোড়া) চড়ে। এর ফল হচ্ছে ছত্রভঙ্গ। আর দেবী সপরিবারে স্বর্গালোকে বিদায় নেবেন দোলায় (পালকি) চড়ে। যার ফল হচ্ছে মড়ক।
মহালয়া উপলক্ষে বিভিন্ন মন্দির ও পূজা কমিটি বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে। মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির উদ্যোগে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গনে কেন্দ্রীয় পূজামণ্ডপে, ঢাকায় রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল, সিদ্ধেশ্বরী মন্দির, রমনা কালীমন্দির, শ্রী শ্রী বরদেশ্বরী কালীমাতা মন্দির, স্বামীবাগের লোকনাথ ব্রহ্মচারী আশ্রম ও মন্দির, রামসীতা মন্দির, জয়কালী মন্দির, হবিগঞ্জের বাহুবলের জয়পুর শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর মামার বাড়ি শ্রী শ্রী শচী অঙ্গন ধামসহ বিভিন্ন পূজামণ্ডপে ভোর থেকেই শুরু হবে চণ্ডিপাঠ, চণ্ডিপূজা ও বিশেষ পূজার মধ্য দিয়ে মহালয়ার ঘট স্থাপন ও বিশেষ পূজা। তবে করোনাকালে সব আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে।