ঢাকা রোববার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৩ আশ্বিন ১৪২৮

ভালবাসার অরন্য বাস

সেন্ট্রাল ডেস্ক
২০ জুলাই ২০২১ ১৪:০৭
আপডেট: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ ০৮:০২
ভালবাসার অরন্য বাস

ড. এস, এম মনির-উজ-জামান

ভালবাসায় ভালবাসায় গড়ে তুলবে এক অরন্য।
সেথায় থাকবে -
আমার স্বপ্নের ছোট্ট ঘর।
মাথার উপর থাকবে খোলা আকাশ।
চার দিকে থাকবে ভালবাসার দেওয়াল। ...
দেওয়াল হবে সবুজ পাতায় শোভিত,
জানালা দরজা থাকবে হিরন্ময় প্রভায় অলংকৃত।
দক্ষিণার মৃদুমন্দ সমীরন নিশঃব্দ পায়ে চুমিয়া
যাবে মোর মনভূমি।
স্পন্দিত বুকে হৃদয়ের গহীনে,ঝংকৃত হবে স্মরন
কালের সুর ও বানী।
এইতো আমার জন্মভূমি --' এদেশে জন্মে ধন্য আমি'।
কবিতার খেরো খাতায় দাগ কেটে যাবে কলম আমার ,
রচিত হবে মহাকাব্য ভালবাসার।
সহস্রাব্দের স্রেষ্ট সন্তানের রক্তে বিধৌত এদেশ
আমার জনকের।
এদেশ আমার কাজী নজরুল, রবীন্দ্রনাথের।
এদেশ আমার নাম না জানা লক্ষ শহীদের।
এদেশ আমার মায়ের আঁচলের আড়ালে লুকিয়ে থাকা -- 'দুরন্ত কিশোরের মিষ্টি মধুর হাসি'।
"আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি"।
রক্তে রঞ্জিত আটই ফাল্গুন,
আমার চেতনার মশালে জ্বালে দীপ্র আগুন।
কোটি কোটি কন্ঠে প্রকম্পিত উচ্ছাস অনিশ্বেষ ,
" হিমালয় থেকে সুন্দরবন হঠাত বাংলাদেশ।"
রফিক শফিক, বরকত, সালাম আর কত নাম,
ভুলিনি আমরা, ভুলবোনা তোমাদের কোন দিন।
আমার সবুজ শ্যামল মাটিতে এখনও রক্তের
দাগ হয়নি মলিন
বনবীথিকার নিকুঞ্জ পথে সন্ধ্যা নামে ধীরে ধীরে,
কলসী কাকে ,আলতা পায়ে সিঁথীতে সিঁদুর বধুয়া
আমার ঘরে ফিরে।
একটি, দুটি তারা জ্বলে উঠে আকাশের গায়,
জোনাকীর আলো নেভে আর জ্বলে এই মায়া ভরা
সন্ধ্যায়।
কুলায় ফেরা পাখিদের কিচির- মিচির ডাকাডাকি,
রাত নামতে এখনও অনেকটা বাকি।
দুরে কিংবা কাছে সমস্বরে ডেকে উঠে খেক শিয়ালের
দল।
গাঁয়ের পথে এখনও কৃষক ফিরছে আলয়ে সাথে
নিয়ে গরুর পাল।
ঝিরি ঝিরি জলের শব্দ ভেসে আসছে কাছের
কোন জলাধার থেকে।
হিস -ফিস শব্দে মনে হয়, সরীসৃপগুলো বের হয়েছে
খাবারের সন্ধানে।
গাঢ় হচ্ছে অন্ধকার।
এতো কাছের খেকে কখনো দেখা হয়নি
অন্ধকারের রুপ--' কি ভয়ংকর সুন্দর।'
মনে পড়ে গেল শরৎ বাবুর ' ইন্দ্রনাথের কথা'।
এই নিশীথ নির্জনে তাকে সংগী হিসাবে পেলে
মন্দ হ'তনা।
অন্তত মাঝে মাঝে গাঁ ছম ছম করা আতংকটা
থাকতো না।
নিবীড় অরন্যে রাত আর দিনের ব্যবধান,
কাছের খেতে না দেখলে এতোটুকু ও আঁচ
করা করা যানা।
নিশুতি রাতের আঁধারকে আড়াল করা যায় না।
রাতের নিঃশব্দ মৌন প্রহর, কেড়ে নেয়
জীবনের বিধুরতা।
গভীর থেকে গভীর হয় একাকী রাতের নিস্তব্ধতা।

সর্বশেষ সবখবর