ঢাকা শুক্রবার, ২২ অক্টোবর ২০২১, ৫ কার্তিক ১৪২৮

বন্যার সঙ্গে বসবাস শিখতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

সেন্ট্রাল ডেস্ক
১৩ অক্টোবর ২০২১ ১৪:৫৯
আপডেট: ২০ অক্টোবর ২০২১ ০৭:২৩
বন্যার সঙ্গে বসবাস শিখতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

ন্যাশনাল ডেস্ক: আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস উপলক্ষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণায়ের অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা বলেন, ‘মনে রাখতে হবে বন্যা আমাদের পলি দেয়। আমাদেরকে বন্যা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে এবং বন্যার সঙ্গে বসবাস করা শিখতে হবে। আমাদেরকে জলাধার তৈরি করতে হবে, যাতে জলাধারে পানি থাকে।’ দেশে অন্যতম প্রাকৃতিক দুর্যোগ বন্যা নিয়ন্ত্রণ করার পাশাপাশি এর সঙ্গে বসবাস করা শিখতে দেশবাসীকে পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বন্যার কিছু উপকারী দিকও তুলে ধরেছেন তিনি। আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস উপলক্ষে বুধবার ঢাকায় উসমানী মিলনায়তনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণায়ের অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২১০০ সালের ডেল্টা প্ল্যান হাতে নিয়েছি। তার ৮০টা প্রকল্পের বাস্তবায়নের কাজ আমরা শুরু করেছি। তবে এখানে নদী ভাঙনের জন্য-তবে মনে রাখতে হবে বন্যা আমাদের পলি দেয়। আমাদেরকে বন্যা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে এবং বন্যার সঙ্গে বসবাস করা শিখতে হবে। আমাদেরকে জলাধার তৈরি করতে হবে, যাতে জলাধারে পানি থাকে। ‘আমাদের দুর্যোগপ্রবণ এলাকা আর এজন্য আমরা অনেকগুলো পদক্ষেপ নিয়েছি। বাংলাদেশ একটা বদ্বীপ। পলি মাটি দ্বারা গঠিত। এই অঞ্চলের মানুষ ভবিষ্যতে যাতে কোনো কষ্ট না পায় তাই ২১০০ সালের বদ্বীপের উন্নয়নের কাজ হাতে নিয়েছি।’ নদী ভাঙন থেকে রক্ষা পেতে সব নদীতে ড্রেজিং করা হচ্ছে এবং মানুষের বসতবাড়ি যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় তার ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে জানান সরকারপ্রধান। শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা ২০২২ সালের মধ্যে ৫১০ কিলোমিটার নদী ড্রেজিংয়ের পরিকল্পনা নিয়েছি। ৪ হাজার ৮৮৩ কিলোমিটার খাল খনন, বন্যা নিয়ন্ত্রণে বাধ নির্মাণের প্রকল্পের কাজ করে যাচ্ছি। ‘আমরা চাই বাংলাদেশ এগিয়ে যাক। বাংলাদেশ আজকে সারা বিশ্বে ঝুঁকি মোকাবিলায় আদর্শ দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। আমাদের এই সম্মানটা যেন বজায় থাকে ভবিষ্যতে সেই বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে।’ প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০২১-২২ অর্থবছরে দেশে বন্যা, নদী ভাঙন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় ত্রাণ সহায়তা হিসেবে ৬১ হাজার ৫১৩ মেট্রিকটন চাল, ১৩০ কোটি ৫৮ লাখ ২৫ হাজার টাকা নগদ সহায়তা, ৩৭ হাজার ৫০০ পাউরুটি ও অন্যান্য খাবার, ১ হাজার ৩০০ বান্ডেল ঢেউ টিন, ২ কোটি ২০ লাখ ৩৪ হাজার শিশুখাদ্য, ৬ কোটি ৫৯ লাখ ৩০ হাজার টাকা ত্রাণ সহায়তা দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘মানুষের খাদ্য চাহিদার যাতে কোনোরকম অভাব না হয় তার জন্য ব্যাপক হারে খাদ্য উৎপাদনের ওপর আমরা গুরুত্ব দিয়েছি এবং কৃষকদের সব ধরনের সহায়তা দিয়েছি।’