ঢাকা রোববার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ৯ আশ্বিন ১৪২৯

গাবুরায় মাদরাসা শিক্ষকের জমি দখলের পায়তারা

সেন্ট্রাল ডেস্ক
১৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ ২১:৪৩
আপডেট: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ ০৩:৪৮
গাবুরায় মাদরাসা শিক্ষকের জমি দখলের পায়তারা

স.ম ওসমান গনী সোহাগ: শ্যামনগর উপজেলার দ্বীপ ইউনিয়ন গাবুরার মাদ্রাসা শিক্ষকের জমি দখলের পাঁয়তারা চালাচ্ছে একটি স্বার্থন্বেষী মহল। ক্রয়কৃত সম্পত্তির দখল বুঝে পেতে দারস্ত হয়েছেন স্থানীয় ইউপি সদস্যসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে। সমাজপতিদের দ্বারস্থ হয়ে সমাধান হয়নি বরং দখলের পাঁয়তারায় আরো বেশি মরিয়া হয়ে উঠেছে প্রতিপক্ষ মো. আবুল কাশেম শেখ ও মো. কেসমত আলী শেখ। সার্বক্ষণিক হামলার আতঙ্কে দিনাতেপাত করছে পরিবারটি। এ ঘটনাটি ঘটেছে ১২ নং গাবুরা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড খোলপেটুয়া গ্রামে। একই এলাকার মো. আবুল কাশেম শেখ ও মো. কেসমত আলী শেখ কোনো যুক্তিসঙ্গত দলিল কাগজ-পত্রাদি না থাকলেও শিক্ষক মাওলানা আব্দুল খালেকের পরিবার ক্রয় সুত্রে মালিক হওয়া সত্বেও বিভিন্ন সময়ে বসবাসে বাধাগ্রস্ত করে আসছে তারা। এ বিষয়ে ভুক্তভোগীরা কয়েকবার একত্রে বসে এলাকার জনপ্রতিনিধি, গন্য মান্য ব্যেক্তিরা একত্রে বসে ফয়সালা করলেও মানতে নারাজ আবুল কাশেম ও কেসমত আলী শেখ। সেই সময়ে মাওলানা আব্দুল খালেক পিতা মৃত মো. আব্দুল ওহাব শেখ সুষ্ঠ বিচার পাওয়ার আশায় স্থানীয় মেম্বার, চেয়ারম্যান, র‌্যাব ৬ সহ সাতক্ষীরা ৪ আসনের সংসদ সদস্য এস, এম জগলুল হায়দার বরাবর শালিশী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের নির্দেশের সুপারিশ পাওয়ার লক্ষে আবেদন করেন। এতে এমপি এসএম জগলুল হায়দার স্থানীয়ভাবে ফয়সালা করার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। পরবর্তীতে স্থানীয়ভাবে বিচার কাজ সম্পন্ন হলেও সে সব সিদ্ধান্ত অমান্য করে পুনরায় ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। এবিষয়ে সরেজমিনে যেয়ে সালিশনামা ঘেটে দেখা যায়, শ্যামনগর থানার অন্তর্গত জে এল নং ১২২ মৌজা গাবুরা এস এ ২৭০ নং খতিয়ানের নজুমদ্দীন শেখের মৃত্যুয়ান্তে ৪ পুত্র এবাদুল শেখ, নুরালী শেখ, সাবের শেখ, আব্বাস শেখ ও ২ কন্যা আদাড়ী বিবি, নেনী বিবি থেকে ফারায়েজ সূত্রে ২৩শতক জমির মালিক নেনী বিবির কাছ থেকে নগদ টাকা আবাশ্যকে সর্বোচ্চ মূল্য বিক্রয় করার ঘোষণা করিলে তৎকালীন বাজারের সর্বোচ্চ মূল্য ৬ বছর আগে ৩৯২৪/৯৬ নং দলিল মূলে আমার মা রহিমা বিবি খরিদ করিয়া নেনী বিবির স্বত্তে স্বত্ববান ও ভোগ দখলিকার হইয়া স্বত্ত দখল পরিচালনা করেন। অত্র এলাকা মৎস্য ঘের হওয়ার এবং তফসীল জমি ঘেরের মধ্যে থাকায় ঘের মালিকের নিকট থেকে নেনী বিবি, রহিমা বিবির নামীয় দলিলে ৭৪৩, ৭৪৫, ৭৪৯, ৭৫৩ দাগ উল্লেখে ১৫ শতক জমির হারী উত্তোলন করি ও সাবেক ৬৯ হাল ৫১ দাগের ভিটা বাড়িতে ০৩ শতক মোট ১৮ শতক জমি ভোগ দখলীকার আছি। কিন্তু অন্যান্য কোবলাগ্রহীতাদের জমি পুরণ থাকলেও আমরা জমি পূরণ নাই। সুতরাং সাবেক ৬৯ হাল ৫১ দাগের থেকে আমি আরো অতিরিক্ত ০৪ শতক জমি পাবো। তাছাড়া বাদী আরো বলেন, উক্ত ঘাটতি ০৪ শতক জমি সাবেক ৬৯ হাল ৫১ দাগ থেকেই পাবো কেননা ৬৯ দাগে নদী ভাঙন বাদে ৭০ শতক জায়গা আছে। নজুমদ্দীনের (৪পুত্র ও ২ কন্যা) হিষ্যা অনুযায়ী ভাই প্রতি প্রত্যেক ১৪ শতক ও বোন প্রতি প্রত্যেক ০৭ শতক জায়গা প্রাপ্ত হয়। তাই সাবের শেখের যেহেতু বাস্তভিটা বাবদ ৬৯/৪৯ দাগে ১৪ শতক জমি ভিটা-বাড়ির রেকর্ড পেয়েছে এবং সে অনুযায়ী বিক্রি করেছে। সেহেতু সাবেক ৬৯ হাল ৫১ দাগে আমি নেনী বিবির কোবলা গ্রহিতা আমার মায়ের স্বত্ব হিসেবে ০৭ শতক জাইগা পাবো। এদিকে দেখা যায় স্থানীয় সালীশের মাধ্যমে বাদি ও বিবাদীদের বক্তব্য, স্বাক্ষীদের স্বাক্ষ্য ও দাখিলি কাগজ পত্র পর্যালোচনাস্তে দেখাযায়, বিবাদিদের উপস্থাপিত তাদের নানা নানির নামীয় ২টি দলিলে সাবের শেখের নিকট থেকে প্রথমত ৭ শতক ও ৩ শতক মোট ১০ শতক জমি কেবলা করে ভি, পি, ৬৭০ নং খতিয়ানের সাবেক ৬৯/ হাল ৫১ দাগে ০৫ শতক ও ভি, পি, ৬৬৮ নং খতিয়ানে ৭৫৪/ ১৩০৮ ও ৭৪৬/ ১২৮১ দাগের ১৪ শতক মোট ১৯ শতক জমি রেকর্ড করেছে। আমাদের উভয়পক্ষের কাগজ-পত্রাদি ও স্থানীয় এলাকাবাসীর স্বাক্ষ্য গ্রহণ এবং সরেজমিনে উক্ত বসতভিটা মাপ জরিপ ও পরিদর্শন পর এক শালিশী সিদ্ধান্ত লিখিত, পাঠিত ও স্বাক্ষরিত হয়। কিন্তু বিবাদিরা উক্ত সিদ্ধান্ত অমান্য করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। সে কারন বিচারালয়ে উপস্থিত বিচারক মন্ডলী ও গন্য মান্য ব্যক্তিবৃন্দ একমত পোষন করেন যে, বিবাদীরা তাদের নানা নানীর নামীয় ২টি দলিলের ১০ শতক জমি ছাড়াও অতিরিক্ত ০৯ শতক মোট ১৯ শতক জমি কর্তব্যরত অফিসারকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে রেকর্ড করে নিয়েছে। যা সম্পূর্ণ বে-আইনী ও অবৈধ। তাই বিবাদীদের অবৈধ দখলীয় অতিরিক্ত ০৯ শতক জমির দাবি উপস্থিত সকলের নিকট অগ্রহনযোগ্য বলে বিবেচিত হয়। কেননা ১০ শতক জমি ক্রয় করে বিবাদীরা সাবের শেখের ভোগ দখলীয় সম্পূর্ণ বিলান জমিতে ভোগ দখলকারী ছিলো এবং বর্তমানেও আছে তার প্রমান ঘের কমিটির খাতায় পাওয়া যায়। সে কারনে সাবেক ৬৯ হাল ৫১ দাগের ০৫ শতক জাইগা দখল সম্পূর্ণ অবৈধ ও অযৌক্তিক বলিয়া বিবেচিত হয়। এ বিষয়ে গাবুরা খোলপেটুয়া ১নং ওয়াডের ইউপি সদস্য হাবিবুল্লাহ বাহার বলেন, সাবেক ইউপি সদস্য কে, এম. ফজলুল হক বিচার কাজ সম্পন্ন করলেও পরবর্তীতে তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপে সালিশী কাজে গ্যাঞ্জাম হট্রগল সৃষ্টি হয়। তবে পুনরায় বাদী বা বিবাদীর আবেদনের প্রেক্ষিতে দুই পক্ষের কাগজপত্র দেখে স্থানীয় গন্য মান্য ব্যেক্তি বর্গে সহ উভয় পক্ষ একত্রে বসে উকিলের হেয়ারিং এর মধ্যদিয়ে গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে হয়তো ফয়সালা করা সম্ভাব। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে শিক্ষক মাওলানা আব্দুল খালেক বলেন আমার পিতা মো. আব্দুল ওহাব শেখ মারা জাওয়ার পর থেকেই আবুল কাশেম শেখ ও কেসমত আলী শেখ আমাদের রেকডিও জাইগা দখল করতে না পেরে বিভিন্ন সময়ে হুমকি ধামকী ও ভয় প্রদর্শন করেছে, যা এখনো চলমান। মাঝে নিজেদের জাইগার উপর ঘর তৈরি করতে গেলেও কৌসলে চলমান কাজ বন্ধ করে দেয়। আমি চাকুরির সুবাদে বেশিরভাগ সময় বাইরে থাকায় আমার মা, স্ত্রী, সন্তান নিয়ে শঙ্খার মধ্যদিয়ে দিন পার করছি। তাই আমাদের উভয়পক্ষের শান্তিপূর্ণভাবে বসবাসের স্বার্থে দ্রুত বিষয়টি নিষ্পত্তি করার জন্য স্থানীয় প্রশাসন, উপজেলা ভূমি কর্মকর্তাসহ প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছি।