ঢাকা শুক্রবার, ০৭ মে ২০২১, ২২ বৈশাখ ১৪২৮

লকডাউনে বিপর্যয়ে পরিবহন শ্রমিকরা, মালিক-প্রশাসন কেউ পাশে নেই

কান্ট্রি ডেস্ক
০১ মে ২০২১ ২০:০৫
আপডেট: ০৫ মে ২০২১ ১৩:১৬
লকডাউনে বিপর্যয়ে পরিবহন শ্রমিকরা, মালিক-প্রশাসন কেউ পাশে নেই

করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে সরকার ঘোষিত লকডাউনে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় চরম বিপর্যয়ে পড়েছেন দেশের পরিবহন শ্রমিকরা।তারা জানান, একদিকে লকডাউনের কারণে যেমন তাদের কোন আয় ছিল না তেমনি মালিক বা প্রশাসনও তাদের পাশে দাঁড়ায়নি।এ পরিস্থিতিতে পরিবহন শ্রমিকদের সংগঠনগুলো দেশজুড়ে রবিবার বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে।

করোনার কারণে বাংলাদেশে গত ৫ই এপ্রিল থেকে গণপরিবহন বন্ধ আছে। এর আগে একই কারণে গত বছরেও কয়েক দফা গণপরিবহন বন্ধ করে পরে আবার সীমিত আকারে চালু করা হয়। পরিবহন শ্রমিকদের অভিযোগ, এবার গণপরিবহন বন্ধের পর সরকারের পক্ষ থেকে সহায়তার কথা বলা হলেও তা শ্রমিকদের কাছে খুব একটা পৌঁছায়নি। আবার মালিকরাও এ সময়টিতে তাদের তেমন কোন সহায়তা করেনি।ঢাকা-শেরপুর রুটের যাত্রীবাহী বাসের চালক মো.সাইফুল ইসলাম বিবিসি বাংলাকে বলেন, আগে তিনি দিন প্রতি ৬০০ টাকা বেতনে কাজ করতেন। কিন্তু গত প্রায় একমাস ধরে তার কাজ নেই। এর আগে গত বছর মার্চ মাসের পর থেকেই নানা সময়ে তাকে কাজ থেকে বিরত থাকতে হয়েছে।

তিনি বলেন, আমি দৈনিক ভিত্তিকে কাজ করি। কাজ করল বেতন পাই। আমাদের কোন নিয়োগ দেয়া হয়না। গত লকডাউনে ৭০/৮০ হাজার টাকা লোন করছি। এবার গত এক মাসের বাসা ভাড়া এখনো দিতে পারিনি।বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন সূত্র জানায়, গণপরিবহনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ৫০ লাখ শ্রমিক। এই ফেডারেশনের অন্তর্ভুক্ত ২৪৯টা শ্রমিক ইউনিয়ন রয়েছে।সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী বলেন, তারা চাচ্ছেন স্বাস্থ্য বিধি মেনে গণপরিবহন চলাচলের অনুমতি দেয়ার জন্য। অন্যথায় তারা রবিবার সারা দেশে বিক্ষোভের কর্মসূচি পালন করবেন।

যদিও সরকারের দিক থেকে গণপরিবহন ঈদের আগে চালুর বিষয়েও ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে তবে কোন আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত এখনো আসেনি।এদিকে যাত্রী কল্যাণ সমিতি নাম একটি নাগরিক সংগঠন বলছে, কয়েক লাখ গণপরিবহন শ্রমিকের কোন তথ্যভাণ্ডার নেই বাংলাদেশে। ফলে সরকারি বা বেসরকারি ভাবে তাদের কাছে সাহায্য পৌছানো সম্ভব হয়নি এই করোনা মহামারির সময়।

সর্বশেষ সবখবর