ঢাকা রোববার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৫ ফাল্গুন ১৪২৭

মেডিকেল শিক্ষায় চর্চা নেই মাতৃভাষার

সেন্ট্রাল ডেস্ক
২১ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ২১:২২
আপডেট: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ০২:৩৪
মেডিকেল শিক্ষায় চর্চা নেই মাতৃভাষার মেডিকেলের সব পাঠ্যপুস্তক ইংরেজিতে, নেই বাংলার ছিটেফোঁটাও

‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি… আমি কি ভুলিতে পারি…’ একুশের প্রথম প্রহর থেকে কণ্ঠে কণ্ঠে ধ্বনিত হচ্ছে এ গান। কারণ একটাই, ১৯৫২ সালে ও এর পরবর্তী সময়ে মায়ের ভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য প্রাণ দিয়ে বিরল ইতিহাস গড়েছে বাঙালি। আজকের মতো প্রতিবছরই উৎসবমুখর পরিবেশে ভাষার বিশেষ দিনটি পালিত হলেও দেশের বেশ কিছু জায়গায় এখনও উপেক্ষিত বাংলা, যার অন্যতম নজির মেডিকেল শিক্ষা ক্ষেত্রে। চিকিৎসক তৈরির সূতিকাগার মেডিকেল কলেজগুলোতে মাতৃভাষার চর্চা নেই ১০০ ভাগের এক ভাগও।

ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, ৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মূল কথা ছিল- জীবনের সর্বস্তরে মাতৃভাষা বাংলার ব্যবহার। সে জন্য দাবি ছিল- বাংলা ভাষাকে সর্বত্র প্রচলনের সাংবিধানিক স্বীকৃতি। ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের সংবিধানে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলাকে স্বীকৃতি দেওয়া হলেও এর কার্যকারিতা স্থগিত রাখা হলো ২০ বছরের জন্য। এরপরে ১৯৬৬ সালে ছয় দফা ঘোষণার পর তৎকালীন পূর্ব বাংলায় নতুন করে বাঙালিয়ানার জোয়ার আসে। তখন বাংলা ভাষায় সব কিছু করার প্রস্তুতি শুরু হয়। এর একটা বড় দিক ছিল শিক্ষার উচ্চতর স্তরের জন্য বাংলায় বই লেখার উদ্যোগ। দেশের প্রথিতযশা বিজ্ঞানী বা চিকিৎসকেরাও এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন।

এদিকে, ভাষা আন্দোলনের ৬৯ বছরেও অফিস-আদালত, স্কুল-কলেজ ও উচ্চ শিক্ষাতে ইংরেজির দাপটে বাংলা ভাষার অসহায়ত্ব দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেছেন ভাষাসৈনিক আহমদ রফিক। তিনি ঢাকা পোস্ট-কে বলেন, ‘রাষ্ট্রভাষা যদি বাংলা হয় তাহলে জাতীয় জীবনে সর্বস্তরে বাংলার প্রচলন হওয়া উচিত। উচ্চশিক্ষা, বিজ্ঞান শিক্ষা এবং উচ্চ আদালতসহ জাতীয় জীবনের সর্বত্র রাষ্ট্রভাষা বাংলার প্রচলন হওয়া উচিত। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল, এটার সামান্যই বাস্তবায়িত হয়েছে। এটা দুঃখজনক।’