ঢাকা সোমবার, ২৭ জুন ২০২২, ১৩ আষাঢ় ১৪২৯

তালায় আ’লীগের বর্ধিত সভায় হৈ-হট্টোগোল ও বিশৃংঙ্খলা

রাজনীতি
৩১ মে ২০২২ ০০:৪৩
আপডেট: ২৭ জুন ২০২২ ০৫:৩৭
তালায় আ’লীগের বর্ধিত সভায় হৈ-হট্টোগোল ও বিশৃংঙ্খলা

স্টাফ রিপোর্টার: হৈ-হট্টোগোল বিশৃংঙ্খলার মধ্যদিয়ে তালা উপজেলা আ.লীগের বিশেষ বর্ধিত সভা শেষ না হতেই বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। জেলা আ.লীগ নেত্রী নাজমুন নাহার মুন্নিকে পিচ্চি মেয়ে, রাজনীতির কি বুঝিস? তালা উপজেলা আ.লীগের সাধারন সম্পাদক ঘোষ সনৎ কুমার এমন কটাক্ষ করে কথা বলায় সভাস্থল উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এসময় জেলা আ.লীগের সদস্য মুন্নির সাথে ঘোষ সনৎ কুমার ব্যাপক বাকবিতন্ডা জড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায় উপজেলা আ.লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ হৈ-হট্টোগোল চিৎকার চেচামেচি করতে থাকে। এক পর্যায় জেলা আ.লীগের নেতৃবৃন্দ সভা নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। বাধ্য হয়ে সভার সভাপতি সাতক্ষীরা জেলা আ.লীগের সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলাম সভা শেষ করে জেলা নেতাদের নিয়ে সভাস্থল ত্যাগ করেন। সোমবার বিকেল ৪টায় তালা উপজেলা পরিষদ হল রুমে সাতক্ষীরা জেলা আ.লীগ কর্তৃক ঘোষিত জেলা আ.লীগের তদারকি কমিটির আহবানে উপজেলা আ.লীগ এক বিশেষ বর্ধিত সভার আয়োজন করে। সভার শুরুতেই অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব নিয়ে উপজেলা আ.লীগের সাথে জেলা আ.লীগের নেতাদের মতবিরোধ হয়। পরে জেলা আ.লীগ কর্তৃক মনোনীত উপজেলা পর্যায়ে তদারকি কমিটির আহবায়ক সাতক্ষীরা জেলা আ.লীগের সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে বিশেষ বর্ধিত সভা শুরু হয়। সভা পরিচালনা করেন তদারকি কমিটির সদস্য সচিব জেলা আ.লীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক আ হ ম তারেক উদ্দিন। এসময় উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা আ.লীগের সহ-সভাপতি শেখ সাহিদ উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী আক্তার হোসেন, আতাউর রহমান, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক সরদার মুজিব, আইন বিষয়ক সম্পাদক এ্যাড. ওসমান গনি, শিক্ষা ও মানব সম্পদ বিষয়ক সম্পাদক লাইলা পারভিন সেঁজুতি, উপ-প্রচার সম্পাদক প্রনব ঘোষ বাবলু, জেলা আ.লীগের সদস্য মাহফুজা রুবি, এ্যাড. জিয়াউদ্দিন, নাজমুন নাহার মুন্নি, মীর জাকির হোসেন, তালা উপজেলা আ.লীগের সভাপতি শেখ নুরুল ইসলাম, সাধারন সম্পাদ ঘোষ সনৎ কুমার প্রমুখ। সভার শুরুতেই উপজেলা আ.লীগের কমিটিতে সদ্য সমাপ্ত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকার বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী, ও নৌকার বিরোধীতাকারী এবং অনুপ্রবেশকারীসহ বিতর্কিতরা সদস্য পদে থাকতে পারবে না এমন ঘোষণা দেন জেলা আ.লীগের নেতারা।
সভায় ইতোপূর্বে কেন্দ্রিয় কমিটি ঘোষিত উপজেলা আ.লীগের সদস্য ও ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি/ সাধারন সম্পাদক এবং সদস্য সমাপ্ত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আ.লীগ মনোনীত নৌকা প্রতিকের প্রার্থীদের মধ্যে বক্তব্য দেয়ার জন্য আহবান জানানো হয়। শুরুতেই তালা উপজেলা আ.লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও খলিষখালী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আ.লীগ মনোনীত প্রার্থী মোজাফ্ফর রহমান বক্তব্য দেন। এসময় তিনি তার বক্তব্যে সদ্য শেষ হওয়া খলিষখালী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ইউনিয়ন আ.লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ওয়াজেদ মন্ডল, সহ-সভাপতি সরদার কামরুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক সরদার শরিফুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক প্রবীর মন্ডলসহ কয়েক জন দলীয় নেতাদের সরাসরি নৌকার বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষ প্রার্থীর হয়ে কাজ করার বিষয়টি তুলে ধরে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানান। মোজাফ্ফর রহমান বলেন, তারা নির্বাচনে নৌকার শুধু বিরোধীতা করেই ক্ষ্যান্ত হননি, এসব নেতারা নির্বাচনের পরে নৌকার নেতাকর্মী ও সংখ্যালঘুদের নানা ভাবে হয়রানী এবং হুমকি ধামকি দেয়ায় আতংকের জনপদে পরিণত হয়েছে খলিষখালী গোটা ইউনিয়ন। আওয়ামী লীগ নেতাদের মদদে বিএনপি নেতা সংখ্যালঘুদের জমিজমা দখল করছে। নৌকার প্রার্থী মোজাফ্ফর রহমান বলেন, খলিষখালী ইউনিয়ন আ.লীগের সাংগঠনিক অবস্থা এখন চরম বিপর্যয়ের মুখে।
এরপর খলিলনগর ইউনিয়ন আ.লীগের সাধারন সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম নৌকার বিরোধীতাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানিয়ে বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের সময় বার বার নেতাদের সহযোগীতা চাইলেও কোন নেতা নৌকার পক্ষে দৃশ্যমান সহযোগীতা করেনি। উল্টো আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের দিয়ে আ.লীগ নেতা কর্মীদের হয়রানী করেছেন এমন অভিযোগ করেন তিনি। সভায় সরুলিয়া ইউনিয়ন আ.লীগের সাধারন সম্পাদক বিশ্বাস আতিয়ার রহমান, তালা ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি শাহাবুদ্দিন বিশ্বাস, উপজেলা ভাইচ চেয়ারম্যান সরদার মশিয়ার রহমান, উপজেলা আ.লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ইকবাল হোসেন, ইসলামকাটি ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি নৌকার প্রার্থী অধ্যাপক সুভাস চন্দ্র সেন সদ্য শেষ হওয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকার বিরোধীতাকারী আ.লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানান। বক্তরা বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকার বিরুদ্ধে যে সব আ.লীগ নেতারা বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছিলেন এমনকি নৌকার প্রার্থীর বিরোধীতাকারী ও তাদের মদদ দাতাদের উপজেলা ও ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড কমিটির কোন পদে থাকতে না পারে তার জন্য কেন্দ্রীয় আ.লীগের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দাবী জানান বক্তারা। তৃনমূল নেতাদের এমন বক্তব্য চলাকালে মঞ্চে জেলা নেতাদের সারিতে বসে থাকা জেলা আ.লীগের সদস্য নাজমুন নাহার মুন্নির সাথে তর্কের জড়িয়ে পড়েন উপজেলা আ.লীগের সাধারন সম্পাদক ঘোষ সনৎ। এসময় মুন্নি জেলা আ.লীগের উপদেষ্টা কমিটির সদস্য, সাবেক তালা উপজেলা পরিষদের ভাইচ চেয়ারম্যান জেবুন্নেছাকে তিন দফায় বর্ধিত সভা থেকে বের করে দেয়ার বিষটি প্রতিবাদ করেন। এতেই ঘোষ সনৎ বিক্ষুব্দ হয়ে জেলা আ.লীগের সদস্য মুন্নিকে কটাক্ষ করেন। এসময় বর্ধিত সভায় হৈ চৈ শুরু হলে সভা নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়ে সভার সভাপতি দ্রæত সভা শেষ করে বেরিয়ে যান। প্রসঙ্গত: বর্ধিত সভায় সাবেক উপজেলা পরিষদের ভাইচ চেয়ারম্যান জেবুন্নেছা অংশ গ্রহণ করার সুযোগ না থাকায় উপজেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক ঘোষ সনৎ তাকে সভাস্থল থেকে বের করে দেন। বিষয়টি মুন্নির দৃষ্টিতে আসায় প্রতিবাদ করেন।
এবিষয়ে তালা উপজেলা আ.লীগের সভাপতি শেখ নুরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বিকার করে বলেন, আ.লীগের সভায় এমন বিশৃংঙ্খলা এর আগে কখনো হয়নি। তালা উপজেলা আ.লীগ একটি সুশৃংখল সংগঠন। কিন্ত জেলা নেতাদের উপস্থিতিতে এমন ঘটনা দু:খজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সর্বশেষ সবখবর