ঢাকা রোববার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৫ ফাল্গুন ১৪২৭

কাদের মির্জাকে আ.লীগ থেকে অব্যাহতি

রাজনীতি
২০ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ২০:০১
আপডেট: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ০৩:০৪
কাদের মির্জাকে আ.লীগ থেকে অব্যাহতি সংগৃহিত

নোয়াখালীর বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জাকে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের নির্বাহী কমিটির সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দলীয় গঠনতন্ত্রপরিপন্থী কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে দল থেকে চূড়ান্তভাবে বহিষ্কারের জন্য আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদে সুপারিশ করা হয়েছে।

শনিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টার দিকে কাদের মির্জাকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ এইচ এম খায়রুল আনম সেলিম।

অব্যাহতি পাওয়া আবদুল কাদের মির্জা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই।

শনিবার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ এইচ এম খায়রুল আনম সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। এ সংক্রান্ত প্রেস বিজ্ঞপ্তি সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে পাঠায় জেলা আওয়ামী লীগ।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কয়েক সপ্তাহ ধরে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর সন্ত্রাসী লেলিয়ে দিয়ে গুরুতর আহত করেছেন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ ও নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ সম্পর্কে মিথ্যা, অশালীন ও আপত্তিকর বক্তব্য দিয়েছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভে এসে সংগঠনবিরোধী অশোভনীয় মন্তব্য ও নেতাকর্মীদের হুমকি দিয়েছেন। এসব অভিযোগে আবদুল কাদের মির্জাকে সংগঠনের সব কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো।

নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে এ এইচ এম খায়রুল আনম সেলিম বলেন, সংগঠনবিরোধী অশোভনীয় কর্মকাণ্ড করায় সবার সিদ্ধান্তক্রমে আবদুল কাদের মির্জাকে উপজেলা আওয়ামী লীগের নির্বাহী কমিটির সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

অব্যাহতির প্রতিক্রিয়ায় বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা বলেন, আমাকে বহিষ্কার করার কিছুই নেই। জেলা আওয়ামী লীগের সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এটি একটি অবৈধ কমিটি। এই কমিটির অস্তিত্ব নেই। আমাকে বহিষ্কারের ক্ষমতা নেই তাদের।

এর আগে দুপুর ১২টার দিকে হরতাল শেষে বসুরহাট পৌরসভার রুপালী চত্বরে ‘কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা, বসুরহাট পৌরসভা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠন’ এর ব্যানারে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে মেয়র আবদুল কাদের মির্জা বলেন, গতকালের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে হামলাকারীদের কঠোর শাস্তি দাবি করছি। আজকে আমার সমর্থকদের ওপর পুলিশ লাঠিচার্জ করেছে। আমি দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাব।

শুক্রবার বিকেলে চাপরাশিরহাট বাজারে কাদের মির্জা ও উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদলের সমর্থকদের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধসহ অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হন। আহতদের কাদের মির্জা নিজের অনুসারী দাবি করেন এবং তাকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ তুলে এর প্রতিবাদে শুক্রবার সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডাকেন।