ঢাকা রোববার, ১৮ এপ্রিল ২০২১, ৪ বৈশাখ ১৪২৮

মিথ্যা মামলা দিয়ে জনমত দমন সরকারের বড় যন্ত্র: ফখরুল

রাজনীতি
০২ এপ্রিল ২০২১ ২২:১০
আপডেট: ১৮ এপ্রিল ২০২১ ১০:৪৩
মিথ্যা মামলা দিয়ে জনমত দমন সরকারের বড় যন্ত্র: ফখরুল ফাইল ছবি

সরকারের সমালোচনা করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘মিথ্যা মামলা দায়ের করা আওয়ামী লীগের এই বেআইনী সরকারের জনমতকে দমন করার একটা বড় যন্ত্র।’

শুক্রবার উত্তরায় নিজ বাসভবন থেকে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘ইতিমধ্যে রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিচার বিভাগ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসনসহ সব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকেই চূড়ান্তভাবে দলীয়করণ করেছে। গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ, ব্যবসা-বাণিজ্যের সব ক্ষেত্রে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করে ইতিমধ্যেই দেশকে একটি স্বৈরাচারী কর্তৃত্ববাদী রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। সব আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা, গণতান্ত্রিক বিশ্ব এ ফ্যসিস্ট সরকারের হত্যা, গুম, খুন, নির্যাতনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘করোনাভাইরাস মোকাবেলায় সরকার ব্যর্থ। কোভিড-১৯ এর দ্বিতীয় ঢেউয়ের আক্রমণে বাংলাদেশের মানুষকে বিপদগ্রস্ত করছে, জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। অনির্বাচিত সরকারের উদাসীনতা, ব্যর্থতা, দূর্নীতির কারণে সংক্রমণ এবং মৃত্যুর হার উদ্বেগজনক হারে দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, অন্যদিকে জনগণের সংবিধান ও ন্যায়সংগত অধিকার আদায়ের সংগ্রামকে এই দখলদারী ফ্যাসিস্ট সরকার দমন করার জন্য হত্যা, গুম, খুন, নির্যাতন, নিপীড়ন, গ্রেপ্তার, মিথ্যা মামলা ও নির্যাতনের পরিমান উদ্বেগজনক হারে বাড়িয়েই চলেছে।’

তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরকে কেন্দ্র করে মহান স্বাধীনতা দিবসের দিনে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ মিছিলে এবং সমাবেশে পুলিশ ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের সশস্ত্র হামলায় ঢাকা, চট্টগ্রাম ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রায় সাতজনকে গুলি করে হত্যা এবং পরের দুই দিনে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচী ও প্রতিবাদ মিছিলের কর্মসূচীতে বেপরোয়া লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেল, গুলি করে মোট ২০ জনকে হত্যা জাতির জীবনে এক কলঙ্কজনক অধ্যায় সৃষ্টি করেছে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘প্রমাণিত হয়েছে যে এই অনির্বাচিত সরকার তাদের বেআইনী ক্ষমতাকে দীর্ঘস্থায়ী করার লক্ষ্যে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে গণতন্ত্রের সব মূল্যবোধকে ধ্বংস করে, একদলীয় রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার হীন চক্রান্ত করছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপিকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য আবারও মিথ্যা প্রচারণা, মিথ্যা মামলা ও গ্রেপ্তারের পথ বেছে নিয়েছে।’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘সারাদেশে আওয়ামী সন্ত্রাস সৃষ্টি করার জন্য অডিও নাটক সাজিয়ে বিএনপি নেত্রী নিপুণ রায় চৌধুরীকে গ্রেপ্তার, রিমান্ডে নেয়া ও সারা দেশে পুনরায় হাজার হাজার অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের হয়রানির হীন পরিকল্পনা করছে।’

নিপুণ রায়কে গ্রেপ্তারের ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘ঢাকায় হেফাজত আহুত হরতালের দিনে নিপুণ রায় চৌধুরীকে রায়ের বাজার তার বাসা থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে তাকে গ্রেপ্তার করে। ওই দিনেই একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে জনৈক আরমানের সঙ্গে তার কথোপকথনের একটি বানোয়াট অডিও প্রচার করে, যা সম্পূর্ণভাবে প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি, বানোয়াট এবং ভিত্তিহীন। নিপুণ রায় চৌধুরী একজন কর্মরত আইনজীবী, একজন সক্রিয় মানবাধিকার কর্মী এবং সচেতন রাজনীতিক। কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে তার জড়িত থাকার প্রশ্নই উঠতে পারে না। এটা সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্রমূলক, সাজানো, তৈরি করা এবং তাকে মিথ্যা দোষারোপ করার একটি জঘন্য চক্রান্ত।’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘বিনাবিচারে হত্যা, ডিজিটাল সিকিউরিটির মাধ্যমে ভিন্নমত দমন সাংবাদিকদের হত্যা, নির্যাতন, মামলা দিয়ে মতপ্রকাশ দমনের ঘটনা, মানবাধিকার লঙ্ঘন এখন আন্তর্জাতিক মিডিয়া ও আন্তর্জাতিক সংস্থা প্রকাশ করছে। এগুলো মানবাধিকার সংস্থা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ সব গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি আল জাজিরার প্রতিবেদন, ইকোনমিস্ট পত্রিকার প্রতিবেদন, জার্মান সংবাদ সংস্থা ডয়েচে ভেলে প্রচারিত প্রতিবেদন এবং অতি সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বর্তমান বেআইনী সরকারের সন্ত্রাস এবং নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহারের মাধ্যমে ২০১৮ নির্বাচনে নিজেদের বিজয়ী ঘোষণা করে পুনরায় ক্ষমতা দখল করার চিত্র প্রকাশিত হয়েছে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ইতিমধ্যে রাজনৈতিক বক্তব্য রাখার জন্য দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য, সিনিয়র নেতৃবৃন্দসহ অসংখ্য নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতা মামলা দায়ের ও গ্রেপ্তরি পরোয়ানা জারি হয়েছে। সর্বশেষ রাজশাহী, খুলনায় রাজনৈতিক বক্তব্য রাখায় দলের ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু, সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি সাবেক মেয়র বুলবুল, সম্পাদক মিলনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতায় মামলা দায়ের হয়েছে। অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ একই সূত্রে গাঁথা।’

তিনি বলেন, ‘আমরা অবৈধ সরকারকে অবিলম্বে পদত্যাগ করে একটি নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আহ্বান জানাচ্ছি। অবিলম্বে এ দেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াসহ সব বন্দি রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মুক্তির আহ্বান জানাচ্ছি। ইতিমধ্যে দায়ের সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের আহ্বান জানাচ্ছি। অন্যথায় দুঃশাসন, দুর্নীতি ও গণতন্ত্র হত্যা দায় নিয়ে এই অবৈধ সরকারকে জনগণের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।’ দেশের সব গণতান্ত্রিক দল সংগঠন ও ব্যক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দুর্বার গণআন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান বিএনপি মহাসচিব।