ঢাকা শনিবার, ১৩ আগস্ট ২০২২, ২৮ শ্রাবণ ১৪২৯

জিম্বাবুয়ের কাছে হেরে সিরিজ শুরু করলো বাংলাদেশ

সেন্ট্রাল ডেস্ক
৩১ জুলাই ২০২২ ০০:৪০
আপডেট: ১২ আগস্ট ২০২২ ১৯:৪৮
জিম্বাবুয়ের কাছে হেরে সিরিজ শুরু করলো বাংলাদেশ

স্পোর্টস ডেস্ক: হার দিয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু করলো সফরকারী বাংলাদেশ। 

 শনিবার সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে জিম্বাবুয়ের কাছে ১৭ রানে হারলো বাংলাদেশ। ফলে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়লো টাইগাররা। জিম্বাবুয়ের ছুঁড়ে দেয়া ২০৬ রানের টার্গেটে ৬ উইকেটে ১৮৮ রান করে বাংলাদেশ। 
নিজেদের মাঠ হারারেতে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নামে জিম্বাবুয়ে প্রথম দুই ওভারে ১টি চারে ১২ রান তুলে জিম্বাবুয়ের দুই ওপেনার রেজিস চাকাবভা ও অধিনায়ক ক্রেইগ আরভিন। তৃতীয় ওভারের চতুর্থ বলে প্রতিপক্ষের উদ্বোধনী জুটি ভাঙ্গেন বাংলাদেশের পেসার মুস্তাফিজুর রহমান। ৮ রান করেন চাকাবভা।
চাকাবভা ফিরলেও, রানের চাকা সচল রেখেছিলেন আরভিন। তাই পাওয়ার প্লেতে ৪৩ রান পায় জিম্বাবুয়ে। তবে সপ্তম ওভারের প্রথম বলে আরভিনের স্টাম্প ভাঙ্গেন বাংলাদেশের স্পিনার মোসাদ্দেক হোসেন। ১৮ বলে ২১ রান আসে জিম্বাবুয়ের অধিনায়কের ব্যাট থেকে। 
দলীয় ৪৩ রানে দুই ওপেনারকে হারানোর পর দলকে সামনের দিকে টানেন ওয়েসলি মাধভেরে ও সিন উইলিয়ামস। তাদের ব্যাটে চড়ে তিন অংকে পা রাখার পথেই ছিলো জিম্বাবুয়ে। স্পিনার নাসুম আহমেদের করা ইনিংসের ১২তম ওভারে ১টি ছক্কা ও ২টি চারে ১৭ রান তুলেন উইলিয়ামস। 
তবে ১৩তম ওভারে দলীয় ৯৯ রানে ভয়ংকর হয়ে উঠা উইলিয়ামসকে বোল্ড করেন মুস্তাফিজ। ৪টি চার ও ১টি ছক্কায় ১৯ বলে ৩৩ রান করেন উইলিয়ামস। তৃতীয় উইকেটে মাধভেরের সাথে ৩৭ বলে ৫৬ রান যোগ করেন উইলিয়ামস।
উইলিয়ামসের বিদায়ে উইকেটে আসেন সিকান্দার রাজা। নিজের মুখোমুখি হয়ে প্রথম ৬ বল থেকে ৮ রান নেন রাজা। সপ্তম বলে পেসার তাসকিন আহমেদকে ছক্কা মারেন রাজা। এরপর থেকেই শুরু হয় রাজার চার-ছক্কার ঝড়। 
১৭তম ওভারের প্রথম বলে ৩৪ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে সপ্তম হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ নেন মাধভেরে। এজন্য ৩৭ বল খেলেন তিনি। হাফ-সেঞ্চুরির পর রাজার সাথে দ্রুত রান তুলতে থাকেন মাধভেরেও। ১৭তম ওভারে ১৩, ১৮তম ওভারে ১৪ রান উঠে। আর ১৯তম ওভারের প্রথম তিন বলে ১টি চার ও ২টি ছক্কা মারেন রাজা। শরিফুলের করা ঐ ওভার থেকে ১৯ রান আসে। ঐ সময় ৩ উইকেটে ১৮৬ রান ছিলো জিম্বাবুয়ে। 
মুস্তাফিজের করা শেষ ওভার থেকে ১৯ রান তুলে জিম্বাবুয়ের স্কোর ২শ পার করেন রাজা ও মাধভেরে। তৃতীয় বলে ২ রান নিয়ে ২৩ বলে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের চতুর্থ হাফ-সেঞ্চুরির দেখা পান রাজা। আর শেষ তিন বলে ২টি চার ও ১টি ছক্কা মারেন রাজা। ৭টি চার ও ৪টি ছক্কায় ২৬ বলে অপরাজিত ৬৫ রান করেন রাজা। ৯টি চারে ৪৬ বলে ৬৭ রান করে আহত অবসর হন মাধভেরে। চতুর্থ উইকেটে মাধভেরে-রাজার ৪৩ বলে অবিচ্ছিন্ন ৯১ রানের জুটিতে ২০ ওভারে ৩ উইকেটে ২০৫ রানের বড় সংগ্রহ পায় জিম্বাবুয়ে। বাংলাদেশের বিপক্ষে এটি সর্বোচ্চ দলীয় রান জিম্বাবুয়ে। বাংলাদেশের মুস্তাফিজ ৫০ রানে ২ উইকেট নেন। 
২০৬ রানের বিশাল টার্গেটে সাবধানী শুরু ছিলো বাংলাদেশের। প্রথম ওভারে ৫ রান আসে। আর দ্বিতীয় ওভারের তৃতীয় বলে ভুল শটে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন ওপেনার মুনিম শাহরিয়ার। ৪ রান করেন তিনি। 
শুরুতে মুনিমকে হারালেও, দলকে চাপ অনুভব করতে দেননি আরেক ওপেনার লিটন দাস ও তিন নম্বরে নামা আনামুল হক। জিম্বাবুয়ের বোলারদের উপর চড়াও ছিলেন লিটন। পঞ্চম ওভার পর্যন্ত ৬টি চার মারেন লিটন। এসময় টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে ষষ্ঠ ব্যাটার হিসেবে ১ হাজার পূর্ণ করেন লিটন। সাবধানী থাকায় ষষ্ঠ ওভারে আনামুলের ব্যাট থেকে আসে প্রথম ছক্কা। এতে পাওয়ার প্লেতে ১ উইকেটে ৬০ রান পায় বাংলাদেশ। 
সপ্তম ওভারের শেষ বলে রান আউট হন দারুন খেলতে থাকা লিটন। ৬টি চারে ১৯ বলে ৩২ রান করেন তিনি। আনামুলের সাথে ৩৩ বলে ৫৮ রান যোগ করেছিলেন লিটন। 
এরপর আনামুল ও আফিফের বিদায়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। আনামুল ২টি ছক্কায় ২৭ বলে ২৬ ও আফিফ ১০ রান করেন। 
শেষ সাত ওভারে ৯৪ রানের প্রয়োজন পড়ে বাংলাদেশের। তখন জুটি বাঁেধন নাজমুল হোসেন শান্ত ও নয়া অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান। আস্কিং রান রেট ১৩ পার হয়ে যায়। এ অবস্থায় ১৪তম ওভারে ১২, ১৫তম ওভারে সোহানের দু’টি ছক্কায় ১৬ রান তুলে বাংলাদেশ। তবে ১৬তম ওভারে শান্তর বিদায়ে ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। ঐ ওভার থেকে মাত্র ৬ রান আসে। ২৫ বলে ৩টি চার ও ১টি ছক্কায় ৩৭ রান করেন শান্ত। 
সাত নম্বরে নামা মোসাদ্দেক হোসেনকে নিয়ে রানের গতি বাড়ানোর চেষ্টা করেন সোহান। ১৭তম ওভারে ১৪ ও ১৮তম ওভারে ১৪ রান তুলেন তারা। তাতে শেষ ২ ওভারে জয়ের সমীকরন ৩২ রানে নেমে আসে। 
কিন্তু জিম্বাবুয়ের বাঁ-হাতি পেসার রিচার্ড এনগারাভার করা ১৯তম ওভার থেকে মাত্র ৪ রান পায় বাংলাদেশ। ঐ ওভারের শেষ বলে ১৩ রান করে আউট হন মোসাদ্দেক। 
শেষ ওভারে ২৮ রানের প্রয়োজনে প্রথম বল ডট হলেও, পরের বলে লেগ-বাই থেকে চার ও তৃতীয় বলে ছক্কা পান সোহান। তবে শেষ তিন বল থেকে কোন রানই নিতে পারেননি সোহান। ফলে ৬ উইকেটে ১৮৮ রান করে ম্যাচ হারে বাংলাদেশ। ২৬ বলে ১টি চার ও ৪টি ছক্কায় অপরাজিত ৪২ রান করেন সোহান। জিম্বাবুয়ের লুক জঙ্গি ৩৪ রানে ২ উইকেট নেন। ম্যাচ সেরা হন জিম্বাবুয়ের রাজা।  
আগামীকাল একই ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি। 
স্কোর কার্ড (টস : জিম্বাবুয়ে)
জিম্বাবুয়ে স্কোয়াড :
চাকাবভা ক শান্ত ব মুস্তাফিজুর ৮
আরভিন বোল্ড মোসাদ্দেক ২১
মাধভেরে আহত অবসর ৬৭
উইলিয়ামস বোল্ড ব মুস্তাফিজুর ৩৩
রাজা অপরাজিত ৬৫
বার্ল অপরাজিত ০
অতিরিক্ত (লে বা-৩, ও-৮) ১১
মোট (৩ উইকেট, ২০ ওভার) ২০৫
উইকেট পতন : ১/১৫ (চাকাবভা), ২/৪৩ (আরভিন), ৩/৯৯ (উইলিয়ামস), ৩/১৯০* (মাধভেরে)।
বাংলাদেশ বোলিং : 
তাসকিন : ৪-০-৪২-০ (ও-৫),
নাসুম : ৪-০-৩৮-০,
মুস্তাফিজুর : ৪-০-৫০-২ (ও-২),
মোসাদ্দেক : ৩-০-২১-১ (ও-১),
করিফুুল : ৪-০-৪৫-০,
আফিফ : ১-০-৬-০।
বাংলাদেশ ব্যাটিং : 
শাহরিয়ার ক চিভাঙ্গা ব মাসাকাদজা ৪
লিটন রান আউট (এনগারাভা/উইলিয়ামস) ৩২
আনামুল ক শুম্বা ব রাজা ২৬
শান্ত ক চাকাবভা ব জঙ্গি ৩৭
আফিফ ক মাসাকাদজা ব জঙ্গি ১০
নুরুল অপরাজিত ৪২
মোসাদ্দেক ক শুম্বা ব এনগারাভা ১৩
নাসুম অপরাজিত ০
অতিরিক্ত (লে বা-১১, নো-৩, ও-১০) ২৪
মোট (৬ উইকেট, ২০ ওভার) ১৮৮
উইকেট পতন : ১/৫ (শাহরিয়ার), ২/৬৩ (লিটন), ৩/৮৫ (আনামুল), ৪/১০৬ (আফিফ), ৫/১৪৬ (শান্ত), ৬/১৭৮ (মোসাদ্দেক)।
জিম্বাবুয়ে বোলিং : 
এনগারাভা : ৪-০-৪৩-১ (ও-২, নো-১),
মাসাকাদজা : ৩-০-২৩-১,
চিভাঙ্গা : ৩-০-২৮-০ (ও-২, নো-১),
উইলিয়ামস : ২-০-৭-০,
রাজা : ৩-০-৩০-১,
জঙ্গি : ৪-০-৩৪-২ (ও-১, নো-১),
মাধভেরে : ১-০-১২-০ (ও-১)।
ফল : জিম্বাবুয়ে ১৭ রানে জয়ী। 
ম্যাচ সেরা : সিকান্দার রাজা (জিম্বাবুয়ে)।
সিরিজ : তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল জিম্বাবুয়ে।

সর্বশেষ সবখবর